আজ বারাসতে অভিষেকের সভা, বার্তার দিকে তাকিয়ে নেতা-কর্মীরা
বর্তমান | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: আজ, সোমবার দুপুরে বারাসতের কাছারি মাঠে সভা করতে আসছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভাকে ঘিরে তৃণমূলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। এই সভায় দলের নেতা-কর্মীদের জেলার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের ‘টার্গেট’ বেঁধে দেবেন তিনি। উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। আগামী নির্বাচনে শাসকদলের পক্ষে ৩৩-০ করার লক্ষ্যমাত্রাকে কর্মীদের মনে গেঁথে দেওয়াই উদ্দেশ্য তৃণমূলের ‘সেনাপতির’। এই লক্ষ্য পূরণে তিনি কর্মীদের আদাজল খেয়ে নামার বার্তা দেবেন বলেই ধারণা জেলা নেতৃত্বের।একইসঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূলের নেতাদের অভ্যন্তরীণ কাজিয়াও প্রকাশ্যে আসছে। এ প্রসঙ্গে অভিষেকের বার্তার দিকেই তাকিয়ে কর্মীরা। এদিন সভার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন রাজ্যের মন্ত্রী রথীন ঘোষ, সাংসদ পার্থ ভৌমিক, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী সহ অন্যান্য নেতারা। এই সভাকে ঘিরে গোটা এলাকায় পোস্টার ও ব্যানার ও পতাকা টাঙানো হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যার পর অনেক রুট থেকেই বাস তুলে নেওয়া হয়। কর্মীদের সভাস্থলে আনতে গাড়ির ‘আকাল’ পড়ে গিয়েছে বলেই দাবি নেতৃত্বের। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন রুট থেকে সমস্ত বাস তোলা হলে সাধারণ মানুষের হয়রানি বাড়বে। তাই প্রতিটি রুট থেকে কম সংখ্যক বাস তোলা হচ্ছে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ছোট গাড়ি, ট্রাকের উপর।বনগাঁ মহকুমায় বিশেষ ফ্যাক্টর মতুয়া ভোট। তা নিয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড কী বার্তা দেন, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছে বনগাঁবাসী। সবমিলিয়ে এদিনের সভায় দু’লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে বলে আশা নেতৃত্বের। দমদম, বারাকপুর, বসিরহাট, বনগাঁ থেকে আসা নেতা, কর্মীদের গাড়ি রাখার জন্য আলাদা পার্কিং জোন করা হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেকের অন্যান্য ‘রণ সংকল্প সভা’র মতো বারাসতেও করা হয়েছে র্যাম্প। কলকাতা থেকে সড়কপথেই তিনি আসবেন বারাসতের কাছারি ময়দানে। র্যাম্পে কমবেশি আটজন ‘ভূতুড়ে ভোটার’কে হাঁটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দল। কামারহাটি, অশোকনগর, মধ্যমগ্রাম, বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার জীবিত অথচ এসআইআরে মৃত দেখানো এমন ভোটাররা সভায় থাকবেন। সভার পর জেলার নেতাদের সঙ্গে চা চক্রে মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি এসআইআরের জেরে অসুস্থ হয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করতে পারেন অভিষেক। এনিয়ে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ বলেন, সবাই মিলে সভা সফল করাই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের বিশ্বাস, যে জমায়েতের টার্গেট নেওয়া হয়েছে, তার দ্বিগুণ মানুষ সমাবেশে আসবেন। অন্যদিকে নারায়ণ গোস্বামী বলেন, আমরা নেতার বার্তার অপেক্ষায় রয়েছি।