• নেই ল্যাম্পপোস্ট, সূর্য ডুবলেই অন্ধকারে ডায়মন্ডহারবার রোড
    বর্তমান | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাকৃতিক আলো যতক্ষণ, ততক্ষণই স্বস্তি গাড়ি, বাইকচালকদের। তারপরই প্রায় ৪০০ মিটার রাস্তা ডুবছে ঘুটঘুটে অন্ধকারে। মোমিনপুর মোড় থেকে ময়ূরভঞ্জ ক্রসিং পর্যন্ত ডায়মন্ডহারবার রোডে নেই কোনও ল্যাম্পপোস্ট। অন্ধকারের দোসর বেহাল রাস্তা। সৌজন্যে মেট্রোর কাজ। দুইয়ের মিশেলে নিত্যদিন ভোগান্তির মুখে পড়ছেন যাত্রীরা। মেট্রোর কাজের জন্য মোমিনপুর জংশনে গাড়ির গতি অত্যন্ত স্লথ। তার মধ্যে উঁচু-নিচু রাস্তায় বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।মাঝেরহাট ফ্লাইওভার থেকে রিমাউন্ট রোড হয়ে মোমিনপুর পর্যন্ত মেট্রোর ব্রিজ তৈরির কাজ শেষ। এখন পুরোদমে কাজ চলছে মোমিনপুর থেকে ময়ূরভঞ্জ ক্রসিং পর্যন্ত। মেট্রোর প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোমিনপুর মোড়েই তৈরি হবে একটি স্টেশন। সেই কাজই চলছে জোরকদমে। স্টেশন তৈরির জন্য ডায়মন্ডহারবার রোডের উপরে একটি বিরাট অংশ ঢালাই হয়েছে। সেই ঢালাইয়ের নীচের অংশ সকালেও বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন। ডায়মন্ডহারবার রোডের এই অংশে রাস্তা আগে একাধিকবার ধসে গিয়েছিল। সেই জায়গায় বসানো হয়েছে কংক্রিট ব্লক। তাতেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। রাস্তা না ভাঙলেও বড় যানবাহন চলাচলের জেরে মোমিনপুর থেকে ময়ূরভঞ্জ পর্যন্ত রাস্তাটি অত্যন্ত উঁচু-নিচু। তার জেরে সকালেও যানবাহনের গতি অত্যন্ত মন্থর।তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা সূর্য অস্ত যাওয়ার পর। মোমিনপুর থেকে মূয়রভঞ্জ যাওয়া-আসার রাস্তায় একটি ল্যাম্পপোস্টও নেই। আগে রাস্তার একেবারে মাঝ বরাবর অংশে ছিল দু’ফলা ল্যাম্পপোস্ট। কিন্তু, মেট্রোর ব্রিজের কাজ্যে জন্য সেই সমস্ত ল্যাম্পপোস্ট উপড়ে ফেলা হয়েছে। তার পরিবর্তে রাস্তায় অন্য আলো বসানোর কোনও ব্যবস্থা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রায় মাস দশেক ধরে মোমিনপুর মোড়ে মেট্রোর কাজ চলছে। তার জেরে গোটা রাস্তা ধুলো, ধোঁয়ায় ভর্তি থাকে। বর্ষায় অবস্থা হয়েছিল আরও ভয়ঙ্কর। কিন্তু, রাতের বেলার রাস্তায় আলো না থাকায় নিত্যদিন সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা।মহম্মদ গোলাম আলি নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, নির্মীয়মাণ মেট্রো স্টেশনের তলাতেই দু’টি ওষুধের দোকান রয়েছে। সেখানে অনেক প্রবীণ নাগরিক যান। শুধুমাত্র দোকানের আলোতে ফুটপাতের কিছু অংশ আলোকিত হয়। কিন্তু, তা বয়স্ক মানুষের পক্ষে যথেষ্ট নয়। অরিজিৎ ঘোষ নামে এক বাইকচালকের কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তায় আলো নেই। একটু অসতর্ক হলেই বাইকআরোহীরা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হবেন।
  • Link to this news (বর্তমান)