নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রুবির মোড়ে শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে স্কাইওয়াক তৈরির কাজ। ২০২৩ সালেই ই এম বাইপাস ও রাসবিহারী অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলে এই স্কাইওয়াক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু, মেট্রোর লাইনের কাজ ও রাস্তায় যানজটের কথা মাথায় রেখে বারবার পিছিয়ে গিয়েছে কাজ। শেষমেশ লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগের তরফে স্কাইওয়াক তৈরির জন্য ছাড়পত্র মিলল। এনিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে (কেএমডিএ) চিঠি দিয়েছে লালবাজার। প্রায় ৫০ কোটি টাকা খরচে তৈরি হবে গোলাকার এই স্কাইওয়াক। এর ফলে যানজট কমার পাশাপাশি ব্যস্ত ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন।শহরের দক্ষিণ-পূর্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল রুবির মোড়। সারাদিনে এই ক্রসিং দিয়ে ১০ লক্ষের বেশি গাড়ি যাতায়াত করে। অফিস টাইমে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে রাসবিহারী–ই এম বাইপাস কানেক্টর। এই এলাকায় যানবাহনের গতিও বেশি থাকে। তাই রাস্তা পারাপার করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ পথচারীদের। তার রেশ গিয়ে পড়ে রাস্তায়। মূল রাস্তায় পথচারীরা নেমে পড়লে বাড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। তাঁদের বিপন্মুক্ত রাখতে গেলে আবার কমে যাচ্ছে যানবাহনের গতি। বাড়ছে যানজটের বহর। রুবির মোড়ে মেট্রো স্টেশন তৈরি হওয়ার পর এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত চালু রয়েছে মেট্রো পরিষেবা। ফলে প্রতিদিন দু’দিক থেকে আসা বহু মেট্রোযাত্রী রুবি মেট্রো স্টেশনে নামেন। কিন্তু সমস্যা হল, স্টেশন থেকে রাস্তায় আসার সবক’টি গেটই উত্তরমুখী। ফলে স্টেশন থেকে নেমে রাস্তার অন্য লেনে যেতে পারাপার করতে হয় বহু মানুষকে। সব মিলিয়ে বাড়ছে যানজটের যন্ত্রণা। এই দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রেহাই দিতেই স্কাইওয়াক তৈরির উদ্যোগ নেয় কেএমডিএ।মেট্রো স্টেশনের সঙ্গেই যুক্ত হবে নতুন এই স্কাইওয়াক। জানা গিয়েছে, এটি দেখতে হবে বৃত্তাকার। রাস্তা থেকে স্কাইওয়াকের উচ্চতা হবে ৫০ মিটারের বেশি। থাকবে চারটি র্যাম্প। প্রতিটিতে একটি করে চলমান সিঁড়ি থাকছে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য থাকবে লিফটও। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে খবর, গত ২৩ ডিসেম্বর লালবাজারে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেএমডিএ, আরভিএনএলের কর্তারা। সেই বৈঠকেই রুবি মোড়ে স্কাইওয়াক তৈরির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। তারপর নতুন বছরেই লালবাজারের তরফে কেএমডিএকে স্কাইওয়াক তৈরির ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা জানিয়েছেন, স্কাইওয়াক তৈরির পুরো খরচই দেবে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড। নিজস্ব চিত্র