• কসবায় বিস্ফোরণ কাণ্ড: অবৈধভাবে বাজি তৈরির অভিযোগে ধৃত গৃহকর্তা, বিস্ফোরক আইনে মামলা
    বর্তমান | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিয়ের মরশুমে এলাকায় বাজি বিক্রি করবেন। এই পরিকল্পনাই ছিল কসবা বিস্ফোরণ কাণ্ডের আহত গৃহকর্তা রণজিৎ মণ্ডলের। তাই বাড়িতেই মজুত করেছিলেন প্রায় ১০ কেজির বেশি তুবড়ি তৈরির বারুদ। তবে লাইসেন্স ছিল না যুবকের। বেআইনি বাজি তৈরির অভিযোগে রণজিৎ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে কসবা থানার পুলিশ। বিস্ফোরক আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে লালবাজার সূত্রের খবর।শনিবার সন্ধ্যায় কসবা থানা এলাকার এন কে ঘোষ রোডের বিশ্বাসপাড়ার একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের জেরে ভেঙে যায় জানালার কাচ। বাড়িতে দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকায় আগুন লেগে যায়। আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কসবা থানা ও দমকলের আধিকারিকরা। আগুন নিভিয়ে উদ্ধার করা হয় বাড়ির মালিক রণজিৎ ও তাঁর স্ত্রীকে। বিস্ফোরণের জেরে জখম হন তিনি। তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখানেই প্রাথমিকভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।তাঁরা জানতে পারেন, ইউটিউব দেখে তুবড়ি তৈরির চেষ্টা করছিলেন রণজিৎ। সেই কাজে সাহায্য করেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু, সঠিকভাবে মশলা ঠাসা হয়নি। খোলের মধ্যে হাওয়া ছিল। এই তুবড়ি টেস্ট করতে গিয়েই বিপত্তি। তুবড়ির কোল ফেটে আগুনের ফুলকি গিয়ে পড়ে বারুদের স্তূপে। তার জেরেই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকে ইতিমধ্যেই বাজি তৈরির অবৈধ বারুদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেগুলি কোথা থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।বিশ্বাসপাড়ার এক বাসিন্দার কথায়, রণজিৎ যে বাড়িতেই বাজি বানাচ্ছিলেন, তা পাড়ার কেউই জানতেন না। আগে কোনওদিনই তিনি বাজি বানাননি।পুলিশি জেরায় রণজিৎ জানিয়েছেন, সামনেই বিয়েবাড়ির মরশুম। এই সময়ে অনেকেই বাজি পোড়ান। বিয়েবাড়িতে বাজি বিক্রির জন্যই অসময়ে তুবড়ি বানানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু, তার জন্য যে বৈধ লাইসেন্সের প্রয়োজন, তা তাঁর জানা ছিল না।
  • Link to this news (বর্তমান)