বিশ্বজিত্ মিত্র: ভোররাতে জোড়া খুন। সন্দেহের বশে বউমা ও ছেলের শাশুড়িকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করল বাবা। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে নদীয়া রানাঘাট থানার অন্তর্গত হবিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের আশুতোষপুরে। জানা যায়, অভিযুক্তের নাম অনন্ত বিশ্বাস বয়স আনুমানিক ৭০ বছর। সূত্রের খবর, অনন্ত বিশ্বাসের স্ত্রী চার দিন আগে মারা গিয়েছেন। আর সেই কারণে জামাইয়ের বাড়িতে এসেছিলেন স্বপ্না মণ্ডল।
অভিযোগ, সোমবার ভোর বেলায় অনন্ত বিশ্বাসের ছেলে ফুল বিক্রি করতে গিয়েছিলেন নৌকারী বাজারে। সেই সময় অনন্ত বিশ্বাস তার বউমা শিল্পা বিশ্বাস মণ্ডল এবং ছেলের শাশুড়ি স্বপ্না মণ্ডলকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। ওই একই ঘরে শুয়েছিল শিল্পার চার বছরের শিশুকন্যা। এরপর অনন্ত চার বছরের নাতনিকে কোলে নিয়ে বাইরে বসে কাঁদতে শুরু করে। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকার বাসিন্দারা ছুটে এসে দেখেন ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে দুজন।
রানাঘাট থানার পুলিসকে খবর দেওয়া হলে এসে ঘটনাস্থল থেকে দেহ দুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এরপর হাসপাতালে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রানাঘাট থানার পুলিস অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়া এলাকায়।
উল্লেখ্য, রবিবার মহেশতলা থেকে বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার জোড়া দেহ। উদ্ধার হয় স্বামী-স্ত্রীর জোড়া দেহ। জানা যায়, স্বামী ও স্ত্রী দুজনই ফ্ল্যাটে তিনতলায় ভাড়া থাকতেন। রবিবার সকালে পরিবারের লোকজন ফোন করে পাচ্ছিল না। তখন পরিবারের লোকজন ফ্ল্যাটে আসে। এসে দেখে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করলেও তখন কোনও সাড়া শব্দ না পাওয়া গেলে মহেশতলা জিঞ্জিরা বাজার তদন্ত কেন্দ্রে পুলিসকে খবর দেওয়া হয়।
পুলিস এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে দেখা যায় স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই খাটের মধ্যে পড়ে রয়েছেন। এবং পাশে ঘুমের ওষুধের খালি বাক্স পড়ে রয়েছে। পুলিস ওই দুজন স্বামী ও স্ত্রীকে উদ্ধার করে বেহালা বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। স্ত্রীর নাম রুমা রক্ষিত (৪৭) স্বামীর নাম তন্ময় দে (৫২)। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে আর্থিক অনটনের মধ্যে ভুগছিলেন দম্পতি। প্রাথমিক অনুমান, আর্থিক অনটনের জেরে দম্পতি আত্মঘাতী হয়েছে।