ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলায় জেলায় উত্তেজনা
আজকাল | ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য জুড়ে এসআইআর-এর শুনানি পর্বে ফর্ম -৭ জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার তৃণমূল এবং বিজেপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমা অফিস চত্বর।
এসআইআর -এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে সোমবার লালবাগ মহকুমা অফিস চত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা।
ঠিক সেই সময়ে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষের নেতৃত্বে স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা মহকুমা শাসকের কাছে প্রায় ২৭ হাজার ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়ে যান।
জানা গিয়েছে, সেই সময় দু'পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বাক-বিতণ্ডা বেঁধে যায়। অভিযোগ উঠেছে বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মন্ডলের গাড়িতে পুলিশের সামনেই ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সেই সময় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের হাত থেকে ফর্ম -৭ ছিনিয়ে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের 'কো-মেন্টর' শাওনি সিংহ রায় বলেন,"বিজেপির নির্দেশে নির্বাচন কমিশন বেশ কিছুদিন ধরে এসআইআর -এর শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে চলেছে। সোমবার লালবাগ মহকুমা শাসকের অফিসে শুনানি চলার সময় আমরা দলীয় অফিসে বসে ছিলাম। সেই সময় আমরা খবর পাই বিজেপির কিছু নেতা প্রায় ২৭ হাজার ফর্ম -৭ মহকুমা শাসকের অফিসে জমা করতে এসেছেন।" তিনি বলেন,"বিজেপি নেতারা অনৈতিকভাবে ফর্ম-৭ জমা করার জন্য আমরা মহকুমা শাসকের অফিসে প্রতিবাদ করতে যাই। সেই সময় আমাদের দেখে বিজেপি বিধায়ক অফিস থেকে পালিয়ে যান। এরপর উত্তেজিত জনতা বিজেপির আনা অবৈধ ফর্ম-৭ রাস্তায় ফেলে পুড়িয়ে দেন। একজন ব্যক্তি ৫-৭ জন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এভাবে ফর্ম -৭ জমা করতে পারেন না। সম্পূর্ণ অনৈতিক কাজ করছিলেন বিজেপি বিধায়ক।" অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, "নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশে বেশ কিছু বিএলও মৃত, স্থানান্তরিত এবং বাংলাদেশি ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে দিচ্ছেন।"
তিনি জানান, "আমরা এই ধরনের অবৈধ ভোটারদের তালিকা ফর্ম-৭ -এ লিপিবদ্ধ করে মহকুমা শাসকের অফিসে জমা করতে গিয়েছিলাম। সেই সময় শাওনি সিংহ রায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা নিয়ে হামলা করে। ভাঙচুর করা হয় আমাদের সাংগঠনিক জেলা সভাপতির গাড়ি। এই হামলার ঘটনায় আমাদের দলের বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছেন।"
তিনি জানান,"প্রাণ বাঁচাতে আমরা মহকুমা শাসকের অফিস থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হই। জাতীয় নির্বাচন কমিশন যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসআইআর করেছিল তৃণমূলের বেআইনি কাজের জন্য করা সম্ভব হচ্ছে না।" আমরা গোটা বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছি।"
ফর্ম -৭ জমা করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয় বহরমপুরে মহকুমা শাসকের অফিসেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা প্রায় ৯০ হাজার ফর্ম-৭ নিয়ে পৌঁছে যান।
বিজেপি অভিযোগ তুলেছে এই ফর্ম তাঁদের থেকে কেউ জমা নিচ্ছে না। জঙ্গিপুর মহকুমা শাসকের অফিসের বাইরেও সোমবার দুপুর থেকে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন।
বিজেপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ফর্ম -৭ জমা দিতে গিয়ে কোনও আধিকারিককে অফিসে পাওয়া যায়নি। ফর্ম-৭ জমা করার শেষ দিন মহকুমা শাসকের অফিসে আধিকারিকরা অনুপস্থিতি থাকায় বিজেপি নেতৃত্ব সেখানে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন ।
অন্যদিকে ফর্ম ৭-কে কেন্দ্র করে আসানসোল দক্ষিণের মহকুমা শাসকের অফিসেও প্রবল উত্তেজনা ছড়াল। হাতাহাতিতে জড়ালেন তৃণমূল-বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা।
সোমবার এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল মহকুমা শাসকের দপ্তরের বাইরে। তৃণমূলের অভিযোগ, একটি কালো গাড়ি বোঝাই করে মহকুমা শাসকের অফিসে কয়েক হাজার ফর্ম-৭ জমা দিতে এসেছিল বিজেপি।
অভিযোগ ওঠে, যাঁরা মৃত নন তাঁদের নামের পাশেও মৃত লিখে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চালানো হচ্ছে এবং এটা বিজেপির তরফ থেকে করা হচ্ছে। অভিযোগ, ওই গাড়িকে আটকায় তৃণমূল।
দাবি করা হয়, ওই গাড়ির ভিতরেই ফর্ম রয়েছে। গাড়ি আটকাতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে। বচসা থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হলে তা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়।
অভিযোগ, গাড়ির ভিতরে থাকা ওই ফর্ম ৭ ছিঁড়ে ফেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী এলাকা ছেড়ে পালান। মহকুমা শাসকের দপ্তরের বাইরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।
অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের লাঠি নিয়ে তাড়া করে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। বিজেপি নেতা অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,"আমাদের কর্মীরা ফর্ম ৭ জমা দিতে এসেছিলেন। তখনই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।''
পাল্টা তৃণমূলের জেলা সম্পাদক পঙ্কজ রায় সরকারের অভিযোগ, ''ভোটারদের নাম নিয়ে বিজেপির কর্মীরা এসেছিলেন। সেই জন্যই আমরা দেখতে চেয়েছিলাম। আমরা কাউকে মারিনি।''
এর পাশাপাশি এদিন বিক্ষোভের মুখে পড়েন বনগাঁ উত্তর বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। রীতিমতো পুলিশ প্রহরায় তাঁকে বনগাঁ মহকুমা শাসকের অফিস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
অশোকের অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা ফর্ম ৭ কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। যদিও ঘটনাস্থলে আন্দোলনরত এক যুবক পল্লব মিত্র বলেন, সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেজন্য সাধারণ মানুষই এই ফর্ম কেড়ে ছিঁড়ে ফেলেছেন।