• অস্কারজয়ীর জাদুতে প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘বন্দে মাতরম’-এর ভোলবদল! ঐক্যের সুর বাঁধবেন ২৫০০ শিল্পী
    এই সময় | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • এ বারের প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্যপথে এক ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে ভারত। ‘বন্দে মাতরম’ গানের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক। এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে গানটিকে নতুন সুরে বাঁধছেন অস্কারজয়ী সুরকার এম এম কিরাবানি। এই রাজকীয় পরিবেশনায় অংশ নেবেন সারা ভারতের প্রায় আড়াই হাজার শিল্পী।

    এক্স হ্যান্ডলে এই বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কিরাবানি জানিয়েছেন, দেশের জন্য এই সুর তৈরি করতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি লিখেছেন, ‘আইকনিক গান বন্দে মাতরম-এর ১৫০তম বার্ষিকীতে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডের জন্য সঙ্গীত পরিচালনা করতে পারা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের বিষয়। সংস্কৃতি মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই বিশাল পরিবেশনায় অংশ নেবেন সারা ভারতের প্রায় ২,৫০০ জন শিল্পী।’

    এর আগে বহু বিশিষ্ট মানুষ এই গানের সুর করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানে সবার প্রথম সুর দিয়েছিলেন তাঁরই সঙ্গীত গুরু যদুনাথ ভট্টাচার্য। শোনা যায়, তিনি ‘মল্লার’ রাগে এটি সুর করেছিলেন।

    এর পরে ১৮৯৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে এই গানে সুর করে গেয়েছিলেন। তিনি ‘দেশ’ রাগের উপরে ভিত্তি করে মূলত গানটির প্রথম স্তবকে সুর দিয়েছিলেন।

    ১৯০১ সালে কংগ্রেসে অধিবেশনে ‘কাফি’ রাগে গানটি পরিবেশন করেছিলেন পন্ডিত বিষ্ণু দিগম্বর পলুস্কর। তাঁর ভক্তিগীতিমূলক সুরটি সেই সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। এর পরে গানটি যাতে সাধারণ মানুষের সমবেত কণ্ঠে গাইতে পারে, তাই একাধিক রাগে বন্দে মাতরম গেয়েছিলেন মাস্টার কৃষ্ণরাও ফুলমব্রিকর।

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অনুরোধে আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্য ‘দুর্গা’ রাগের উপরে ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী মার্চিং টিউন বা রণসঙ্গীত হিসেবে গানটির সুর দেন তিমির বরণ ভট্টাচার্য।

    ১৯৫২ সালে ‘আনন্দমঠ’ সিনেমার জন্য হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ও বন্দে মাতরমের সুর করেছিলেন। গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো বা আকাশবাণীতে সম্প্রচারের জন্য গানটির সুর করেছিলেন পন্ডিত রবিশঙ্কর।

    ১৯৯৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ‘মা তুঝে সালাম’ গানের মধ্যে বন্দে মাতরমকে সম্পূর্ণ আধুনিক সুরে বেঁধেছিলেন এ আর রহমান। তরুণ প্রজন্মের কাছে আজও এই গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

    এঁরা ছাড়াও পন্ডিত ওঙ্কারনাথ ঠাকুর, ভি ডি আম্বাইকর এবং হাল আমলে শুভা মুদগলের মতো শিল্পীরাও বিভিন্ন সময়ে বন্দে মাতরম-এর নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করেছেন। এ বার সেই দায়িত্ব নিলেন কিরাবানি।

    জানা গিয়েছে, ২৬ জানুয়ারি কর্তব্যপথে এই বিশেষ পরিবেশনাটি অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আড়াই হাজার শিল্পী কিরাবাণীর তৈরি সুরে গলা মেলাবেন। জাতীয়তা ও ঐক্যের বার্তা দিতেই এই রাজকীয় আয়োজন করা হয়েছে। ‘নাটু নাটু’ গানের জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পাওয়ার পরে, এ বার দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদযাপনে এই সুরকারের সৃষ্টি শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দেশবাসী।

  • Link to this news (এই সময়)