প্রচলিত রীতিনীতি ভেঙে বিমানবন্দরে ছুটে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নায়ানকে জড়িয়েও ধরেন তিনি। তার পর সোমবার রাতে নয়াদিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনে বৈঠক করলেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে খবর, পারমাণবিক শক্তি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে তাঁদের। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদে নিন্দাও জানিয়েছে দুই দেশ।
নয়াদিল্লির আমন্ত্রণেই সরকারি সফরে এসেছেন শেখ মহম্মদ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটি তাঁর তৃতীয় ভারত সফর। রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও লাতিন আমেরিকার তথা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদক দেশ ভেনেজ়ুয়েলা থেকেও তেল আমদানি করত নয়াদিল্লি। তবে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরে সেই রাস্তাও কার্যত বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে তেলের জন্য আরব দুনিয়ার উপরেই ভরসা রাখতে হচ্ছে মোদী সরকারকে। তাই আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এ দিনের বৈঠকে জ্বালানি খাতে একাধিক চুক্তি করেছে দুই দেশ। আমিরশাহি ২০২৮ থেকে শুরু করে পরবর্তী দশ বছর লিকুইফায়েড ন্যাচারল গ্যাস সরবরাহ করবে ভারতকে। এই নিয়ে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL) এবং ADNOC Gas-এর মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে লেটার অফ ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। পাশাপাশি সেখ মহম্মদের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বৃহৎ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর ও স্মল মড্যুলার রিঅ্যাক্টরের মতো উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তিতে যৌথ ভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা করেন মোদী। পাশাপাশি ঢোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়নের উন্নয়নের জন্য আমিরশাহির বিনিয়োগ মন্ত্রকের সঙ্গে একটি পৃথক লেটার অফ ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে গুজরাট সরকারও।য়
আবু ধাবিতে তৈরি হতে চলেছে ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাউস অফ ইন্ডিয়া’। এখানে ভারতীয় শিল্পকলার প্রদর্শনী হবে। পাশাপাশি যুব বিনিময় কর্মসূচি নিয়েছে দুই দেশ। দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও দৃঢ় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে।