• রোহিঙ্গা-বাংলাদেশী নই, পাকিস্তান থেকেও আসিনি: কাজল
    আজকাল | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার এসআইআর-এর শুনানির নোটিস পেলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। নির্বাচন কমিশনের তরফে পাঠানো এই নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাজল শেখের দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে বারবার মুখ খোলার কারণেই তাঁকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।

    তিনি জানান, ১৯৯৩ সাল থেকে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন। ২০০২ সালেও তিনি ভোট দিয়েছেন এবং সেই সময় পর্যন্ত তাঁর নাম ও অন্যান্য তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। অথচ আচমকা এখন তাঁর নাম বদলে ফাইজুলের জায়গায় ফায়েবুল করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই নাম পরিবর্তন ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্য। তিনি বলেন, যতই হয়রানি করা হোক, তাঁর মুখ থেকে মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ ছাড়া আর কিছু বের হবে না।

    এই প্রসঙ্গে কাজল শেখ বলেন, “আজকের এই ঘটনা থেকে তাঁর মনে হচ্ছে দেশ এখনও পুরোপুরি স্বাধীন হয়নি, পরাধীন অবস্থায় রয়েছে। বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ বৃথা হয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিভিন্নভাবে বাংলাকে বঞ্চিত করছে এবং পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এসআইআর-এর নাম করে বাংলায় যেভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে, তা একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।”

    কাজল অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষ ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই আতঙ্কে অনেক সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এমনকি মানসিক চাপে আত্মঘাতী হয়েছেন বিএলওরাও। এর জেরে ইতিমধ্যেই ইলামবাজার ও বোলপুর শ্রীনিকেতন ব্লকে একাধিক বিএলও পদত্যাগ করেছেন। পুরো বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে।

    তাঁর কথায়, কিছুদিন আগে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামকেও একইভাবে এসআইআর শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। অমর্ত্য কেন্দ্রের একাধিক নীতির সমালোচনা করেছিলেন এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা করেছিলেন বলেই তাঁকে হয়রানি করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। একইভাবে সামিরুল ইসলাম পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন এবং সোনালি বিবিকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। সেই কারণে তাঁকেও হয়রানি করা হয়েছে।

    নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই বলে স্পষ্ট করেন কাজল। তিনি বলেন, “আমি রোহিঙ্গা নই, আমি বাংলাদেশীও নই, আমি পাকিস্তান থেকেও আসিনি। আমার বাবা, দাদু এবং তাঁদের পূর্বপুরুষরা বীরভূমের রাঙ্গা মাটিতেই জন্মগ্রহণ করেছেন। সারা বাংলার মানুষ জানেন আমি কে। শুনানির জন্য যতবার ডাকবে, ততবারই যাব। কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি, সিবিআইকেও ডাকতে পারে। আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুগত সৈনিক। তাঁর জন্য সব সময় লড়াই করতে প্রস্তুত। বাবা ও দাদু-সহ পূর্বপুরুষদের সমস্ত নথি আমার কাছে রয়েছে। সব নথি সঙ্গে নিয়েই শুনানিতে হাজির হব।”
  • Link to this news (আজকাল)