বাজেটে ফিক্সড ডিপোজিট ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে কর ছাড়ের ভাবনা কেন্দ্রের
বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালের বাজেটে ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে কার্যত শূন্য আয়করের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে কমানো হয়েছে জিএসটি। কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে একই বছরে দু’টি সুরাহা দেওয়া হয়েছে মধ্যবিত্তকে। লক্ষ্য ছিল একটাই, যাতে সাধারণ মানুষ আরও বেশি কেনাকাটা করে। অর্থাৎ আয়কর এবং জিএসটিতে বেঁচে যাওয়া অর্থ যেন বাজারে নিয়ে আসে গ্রাম ও শহরের মানুষ। উদ্বৃত্ত অর্থ হয় মানুষ সঞ্চয় করে অথবা পণ্য কেনে। আয় সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে মানুষ খরচ কমিয়ে দেয়। অর্থনীতির সরল নিয়ম অনুযায়ী প্রভাব পড়ে বাণিজ্যে। চাহিদা কমে গেলে উৎপাদন কমবে। উৎপাদন কমলে কল কারখানার মুনাফা কম হবে। কর্মীছাঁটাই শুরু হয়ে যাবে। এই প্রতিটি স্তর দেখা গিয়েছে।২০২৫ সালে মরিয়া হয়ে তাই মোদি সরকার শেষ চেষ্টা করেছিল। আয়কর কমিয়ে দেওয়া এবং জিএসটি ধাপের বদল। এরপর কেটে গিয়েছে চারমাস। ফল নিয়ে এখনও তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সরকারের আয়ের সংস্থান খুব বেশি না থাকায় আসন্ন বাজেটে আয়করে বিশেষ কোনও সুরাহা হবে না। প্রতীকি কিছু সুবিধা দেওয়া হতে পারে। সেই কারণেই জল্পনা চলছে ফিক্সড ডিপোজিট এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে প্রাপ্ত সুদের উপর যে কর ধার্য হয়, সেটি কমানো হতে পারে। যদিও সেই সম্ভাবনা সিনিয়র সিটিজেনদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে সরকারের একটি সূত্রের বক্তব্য। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে সব বয়সিদের জন্য ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট, ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের উপর ধার্য হওয়া করের ঊর্ধ্বসীমা কমানো হবে নাকি শুধুই সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য এই উপহার দেওয়া হবে? সেটা স্পষ্ট নয়। মনে করা হচ্ছে, বিগত বছরগুলিতে ব্যাংক ও ডাকঘরে সঞ্চয়ের প্রবণতা যতটা কমেছে, ততটাই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মিউচুয়াল ফান্ড ও এসআইপি সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহ। সুতরাং ব্যাংকগুলিতে ডিপোজিট হার কমেছে। বরং বেড়েছে ঋণের হার। ঋণ বাড়ছে কিন্তু ডিপোজিট বাড়ছে না, এরকম চললে টাকা ব্যাংক পাবে কোথা থেকে? তাই ক্রেডিট ডিপোজিট রেশিওর ভারসাম্যহীনতাও তৈরি হচ্ছিল। সরকার চাইছে, সাধারণ মানুষ যেন আবার পুরানো অভ্যাসের মতোই ফিক্সড ডিপোজিট করুক। সাধারণ মানুষের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ৫০ হাজার টাকা ছাড় রয়েছে ফিক্সড ডিপোজিটে। সেই সীমা বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম কমে গিয়েছে। এবার সেই প্রিমিয়ামেও করছাড় হতে পারে সামান্য। যাতে বেশি করে স্বাস্থ্য বিমা করে মানুষ।