কামানের গোলার পাল্লা বাড়বে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, সেনার হাতে এল বিশেষ প্রযুক্তি, আবিষ্কার আইআইটি মাদ্রাজের
বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন হবে না। সুরক্ষা এবং নিরাপত্তায় কোনওরকম আপসের দরকারও পড়বে না। এমনকী শত্রু ঘাঁটিতে আঘাত হানার ক্ষমতাও বিন্দুমাত্র কমবে না। শুধুমাত্র বিশেষ পদ্ধতিতে বেড়ে যাবে কামানের তোপ দাগার ‘রেঞ্জ’। বাড়তি খরচ ছাড়াই এহেন ‘রেঞ্জ’ বা পাল্লা বাড়ানো যাবে অন্তত ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিতে এমনই চমকপ্রদ আবিষ্কার করেছে আইআইটি মাদ্রাজ। এই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট গবেষক দলের এহেন উদ্ভাবন ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে সফল হয়েছে। আইআইটি মাদ্রাজের অধ্যাপক পি এ রামকৃষ্ণের নেতৃত্বে ন’জন সদস্যের একটি দল এব্যাপারে গবেষণা করেছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক। তাঁরা হলেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল পি আর শঙ্কর এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিমোহন আইয়ার।জানা যাচ্ছে, প্রধানত র্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এহেন উদ্ভাবন ঘটিয়েছেন গবেষক দলের সদস্যরা। র্যামজেট ইঞ্জিন বাহনের উচ্চগতিকে ব্যবহার করে প্রবাহিত বাতাসকে সংকুচিত করে দেয় এবং তাকে জ্বালানির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলে। এর ফলে আরও বেশি শক্তির উদ্ভব হয় এবং এর জন্য কোনওরকম টার্বাইনের প্রয়োজন হয় না। মূলত এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে এমন চমকপ্রদ হাতিয়ার তুলে দিতে সক্ষম হয়েছেন অধ্যাপক পি এ রামকৃষ্ণ এবং তাঁর টিম। একটি ১৫৫ এমএম কামানের গোলায় র্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এর পরীক্ষা হয়েছে। তাতেই মিলেছে সাফল্য। গবেষক দলের দাবি, এর ফলে বফর্স কামানের ‘রেঞ্জ’ ২৪ কিমি থেকে বেড়ে হবে প্রায় ৪৩ কিমি। ধনুষের ক্ষেত্রে ‘রেঞ্জ’ ৩০ কিমি থেকে হবে প্রায় ৫৫ কিমি। বজ্র ৩৬ কিমি ‘রেঞ্জে’র পরিবর্তে প্রায় ৬২ কিমি দূরত্বে আঘাত হানতে পারবে।গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘রেঞ্জ’ বৃদ্ধির ফলে কামানের গোলার আঘাত হানার প্রাবল্য কমে যাবে কি না, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু সংশয় ছিল। কিন্তু পরীক্ষায় সেই আশঙ্কা কেটে গিয়েছে। অর্থাৎ, ভারতীয় সেনাবাহিনীর কামানের গোলার ক্ষমতা একইরকম শক্তিশালীই থাকবে। আইআইটি মাদ্রাজ সূত্রে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রথমে ৭৬ এমএম গোলায় পরীক্ষা হয়। পরবর্তী ক্ষেত্রে ১৫৫ এমএম বেছে নেওয়া হয়। গত সেপ্টেম্বরে এহেন পরীক্ষা হয় নাসিকের কাছে দেওলালি স্কুল অব আর্টিলারিতে।সেখানে সাফল্য মেলে। এরপর গত ডিসেম্বরে পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে এর ফিল্ড ট্রায়াল হয়। সেখানেও সফল হন গবেষকরা।