নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্কুল সার্ভিসের কমিশনের মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। নতুন নিয়োগে যোগ্য প্রার্থীদের বয়সের ছাড় ছিল মামলার বিষয়। সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, আমরা কখনই বলিনি যে, যারা চাকরি পায়নি, তাদের বয়সের ছাড় দিতে হবে। ওয়েটিং লিস্টে থাকা প্রার্থীদের নিয়েও কোনও নির্দেশ দিইনি। ফলে কলকাতা হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত যে নির্দেশ দিয়েছে, তার উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হচ্ছে।কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল, যে চাকরিপ্রার্থীরা ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুযোগ পাননি, তাঁদেরও বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। যাঁরা অযোগ্য নন, তাঁদের কোনও তালিকা নেই। ফলে ধরে নিতে হবে নতুন প্রক্রিয়ায় শুধু তালিকায় থাকা দাগিরাই বাদ যাবে। বাকিরা দাগি না হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ছাড় পাওয়ার যোগ্য। যদিও সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন। এদিন সওয়ালে এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন। কয়েকদিনের মধ্যেই তালিকা প্রকাশ হবে। ফলে এখন এ ধরনের মামলা গ্রহণ করাই উচিত নয়।পালটা সওয়ালে বিবাদী জাকির হোসেন এবং নুপুর ঘোষালের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং ফিরদৌস শামিম হাইকোর্টের নির্দেশের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায় ব্যাখ্যা করেন। বোঝাতে চান কেন যোগ্য, বঞ্চিত এবং সুযোগ না পাওয়া প্রার্থীরাও আদালতের নির্দেশে ছাড় পেতে পারে। যদিও বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আমরা কখনও বলিনি যোগ্য অথচ সুযোগ না পাওয়াদেরও ছাড় দিতে হবে। ফলে হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত। আদালতের নির্দেশের পরও সওয়াল চালিয়ে যেতে চান আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তাই তাঁর আচরণে ক্ষুব্ধ বিচারপতি সঞ্জয় কুমার বলেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। এ প্রসঙ্গে যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের তরফে চিন্ময় ঘোষ বলেন, সুপ্রিম কোর্ট তাদের রায়ের ব্যাখ্যা দিয়েছে। শুধু যে কর্মরত শিক্ষকদেরই ‘নন-টেন্টেড’ হিসেবে গণ্য করতে বলেছিল আদালত। এদিন তা আবার স্পষ্ট করেছে। আদালতেও ধমক খেয়েছেন মামলাকারীর আইনজীবীরা।’