পুলিশ হেপাজতে নির্যাতিতার বাবার মৃত্যু মামলা সেঙ্গারকে জামিন দিল না হাইকোর্ট
বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি: পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছিল উন্নাওতে ধর্ষিতার বাবার। এই মামলাতেও প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সেঙ্গার। জানিয়েছিলেন, জামিনের আর্জিও। সোমবার তাঁর দু’টি আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজা জানিয়েছেন, ‘জামিন দেওয়ার কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ দেখছি না।’ পুলিশি হেপাজতে খুনের পাশাপাশি কিশোরীকে ধর্ষণ মামলাতেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সেঙ্গার। ধর্ষণ মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ধর্ষণ মামলায় দিল্লি হাইকোর্টে সেঙ্গার স্বস্তি পাওয়ায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল। শেষপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় সেঙ্গারের জামিন খারিজ করে দিয়েছিল।২০১৭ সালের ৪ জুন উত্তরপ্রদেশের উন্নাওতে চাকরি দেওয়ার নামে বাড়িতে ডেকে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সেঙ্গারের বিরুদ্ধে। পরের বছর ৩ এপ্রিল সেই মামলায় সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার সময় কিশোরীর বাবাকে প্রকাশ্যে মারধর করে উন্মত্ত জনতা। পরের দিনই বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখার দায়ে কিশোরীর বাবাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শরীরে নানা আঘাতের কারণে ৯ এপ্রিল পুলিশি হেপাজতেই মৃত্যু হয় তাঁর। কিশোরীর বাবাকে ভুয়ো অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর মামলায় সেঙ্গারকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় দিল্লির তিস হাজারি কোর্ট। তাঁর ভাই অতুল সিং সেঙ্গার সহ আরও ছ’জনের একই সাজা হয়। ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল থেকে জেলবন্দি সেঙ্গার।সোমবার পুলিশি হেপাজতে মৃত্যু মামলার শুনানিতে নির্যাতিতার আইনজীবী মেহমুদ প্রচা সেঙ্গারের জামিন আর্জির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, দোষীর জামিন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের পক্ষে বিপদ হয়ে উঠবে। আইনজীবী আরও বলেন, নির্যাতিতা এবং তাঁর পরিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। সেঙ্গারের জামিন বাতিলের পর তার মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। অন্যদিকে, সেঙ্গারের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ৯ বছরের বেশি হাজতবাস হয়ে গিয়েছে। আর মাত্র ৯ মাস বাকি। এর আগে মেয়ের বিয়ের জন্য স্বল্প মেয়াদে জামিন পেয়েছিলেন সেনগার। তখন তিনি সেই সুযোগের অপব্যবহার করেননি। তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হতে পারেনি আদালত।