ঝাঁসি: লিভ-ইন সঙ্গীকে খুনের অভিযোগ উঠল এক অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রমাণ লোপাট করে দেহ ট্রাঙ্কে রেখে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্ত রাম সিং পরিহার। পরে ভস্মের কিছু অংশ নদীতে ফেলে দিয়ে আসে ওই ব্যক্তি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্রাঙ্কে থাকা দেহাবশেষ দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে রেখে আসার কথা ছিল। সেটা করতে গিয়েই সবকিছু জানাজানি হয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির। মৃত মহিলার নাম প্রীতি। ঘটনায় ইতিমধ্যে দু’জনকে হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত এখনও ফেরার। মৃতার প্রাক্তন স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেছে ঝাঁসি পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সম্ভবত ৮ জানুয়ারি প্রীতিকে খুন করেছিল রাম। পুলিশ সূত্রে খবর, রামের দুই স্ত্রী। প্রক্তন স্ত্রী থাকেন সিপ্রি বাজার এলাকায়। দ্বিতীয় স্ত্রী গীতার বাড়ি কোতোয়ালি এলাকায়। এরপরেও প্রীতির সঙ্গে দিব্যি লিভ-ইন সম্পর্কে চালিয়ে যাচ্ছিল অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, রামের কাছে টাকা দাবি করেছিলেন প্রীতি। ইতিমধ্যে লক্ষাধিক টাকা নিয়েছিলেন ওই মহিলা। আরও টাকা চাওয়ায় লিভ-ইন সঙ্গীকে খুনের সিদ্ধান্ত নেয় অভিযুক্ত।পুলিশ জানিয়েছে, প্রীতির দেহ ট্রাঙ্কে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয় রাম। তারপর ভস্ম বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে আসে সে। বাকি দেহাংশ ট্রাঙ্কেই রাখা ছিল। ঠিক ছিল, সেই ট্রাঙ্ক গীতার বাড়িতে পাঠানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে গীতার ছেলে নীতিনকে ডেকে পাঠায় রাম। নীতিনের সঙ্গে কয়েকজন বন্ধুও আসে। এরপর একটি গাড়ি ভাড়া করে ট্রাঙ্কটি তুলে দেওয়া হয়। বন্ধুদের সঙ্গে সেটি মায়ের বাড়িতে রেখে দেয় নীতিন। গীতার বাড়িতে ট্রাঙ্ক নামানোর পরে চালক জয়সিং পালের সন্দেহ হয়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন তিনি। জয়সিং বলেন, ‘এই কাজের জন্য আমাকে ৪০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। ট্রাঙ্কটি দেখার পর থেকেই সন্দেহ হচ্ছিল। তাই প্রথমে কাজ করতে চাইনি। পরে রাজি হয়ে যাই। তবে ট্রাঙ্ক নামামোর পরেই সন্দেহ বেড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানাই।’ খবর পাওয়ামাত্র গীতার বাড়িতে যায় পুলিশ। ট্রাঙ্ক খুলতেই বেরিয়ে আসে পোড়া দেহাংশ, হাড়ের টুকরো। এসপি (শহর) প্রীতি সিং বলেন, ‘প্রীতি যে টাকার জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন, রাম তা জানিয়েছিল। এমনটাই দাবি করেছেন অভিযুক্তের দ্বিতীয় স্ত্রী গীতা। ঘটনাস্থল থেকে তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। রামের ছেলে সহ দু’জনকে হেপাজতে নেওয়া হয়েছে। মূল অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।’