• ভোট কাটাকাটিতে লাভের গুড় কার ঘরে, বিশ্লেষণে ডান-বাম দুই শিবির
    বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ‘আগে রাম, পরে বাম’। এই তত্ত্ব ছড়িয়ে বিজেপি উনিশের লোকসভা ও একুশের বিধানসভা ভোটে ফায়দা তুলেছিল। অর্থাৎ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বামের ভোট রামের ঘরে ট্রান্সফার হওয়াতে দু’টি ভোটে লাভের গুড় খেয়েছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু বিজেপির এই তত্ত্ব ক্রমশ কি ফিকে হচ্ছে? চব্বিশের লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার, কুমারগ্রাম ও ফালাকাটা এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ফল বলছে, জেলায় বামেদের ভোট বাড়ছে। বামেদেরও দাবি, আসন্ন বিধানসভা ভোটে তাঁদের ভোট আরও বাড়বে।বামেদের ভোট বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকলে আগামী ভোটে নিশ্চিতভাবে ধাক্কা খাবে বিজেপি। সুবিধা হতে পারে তৃণমূলের। রাজনৈতিক মহল এমনটাই মনে করছে। যদিও বিজেপির দাবি, রাজ্যের মানুষ এখন বিজেপিমুখী। ফলে বামেদের ভোট বাড়লেও তাঁদের কোনও ক্ষতিই হবে না।উনিশের লোকসভা ভোটে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল বামেদের। একুশের বিধানসভা ভোটে বামেদের সেই রক্তক্ষরণ অব্যাহত ছিল। কিন্তু চব্বিশের লোকসভা ভোট থেকে জেলায় বামেদের কোমর একটু একটু করে সোজা হতে শুরু করেছে। গত লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার, কুমারগ্রাম ও ফালাকাটা তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে বামেরা ভালোই ভোট পেয়েছে। গত লোকসভা ভোটে বামেরা আলিপুরদুয়ারে ৭২৬৬, কুমারগ্রামে ৭৬৪১ ও ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে ৬৭০৪ টি ভোট পায়।সিপিএমের আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক কিশোর দাস বলেন, মানুষ তৃণমূল ও বিজেপির প্রতি বীতশ্রদ্ধ। বিকল্প শক্তি হিসেবে বামেদের প্রতি কিন্তু রাজ্যের মানুষের আস্থা ফিরছে। গত লোকসভা ভোট থেকেই আমাদের ভোট বাড়ছে। আগামী বিধানসভা ভোটে আমাদের আরও ভোট বাড়বে। বামেদের ভোট নিজেদের ঘরে ফিরলে কি জোড়াফুলের লাভ, এই প্রশ্নের উত্তরে কিশোর দাস বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলই আমাদের ঘোষিত শত্রু। ফলে আমাদের ভোট বাড়লে কোন দলের লাভ বা কোন দলের ক্ষতি তা বলতে পারব না।অন্যদিকে, বামেদের ভোট বেড়ে যাওয়ার প্রবণতায় বিজেপি শঙ্কিত কি না তা নিয়ে ওই দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি গুণধর দাস বলেন, রাজ্যের মানুষ এখন বিজেপিমুখী। ফলে কার ভোট বাড়ছে তা নিয়ে আমাদের কোনও শঙ্কা নেই। আর তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বড়াইক বলেন, জেলায় বামেদের ভোট বাড়ছে। এটা লক্ষণীয় বিষয়।
  • Link to this news (বর্তমান)