নাবালকদের সামনে রেখে মাদক-বন্দুকের কারবার দু’টি অভিযানে ৪৮ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার দুই কিশোর
বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: নাবালকদের সামনে রেখে শিলিগুড়ি মহকুমায় ফুলেফেঁপে উঠছে মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র কারবারিবা। গত ৪৮ ঘণ্টায় দুই কিশোর ধরা পড়েছে পুলিশের জালে। আর তারপরেই এই বিষয়টি সামনে এসেছে। রবিবার গভীর রাতে নাবালক ছেলেকে নিয়ে ব্রাউন সুগার পাচারের সময় পানিট্যাঙ্কিতে ধরা পড়ে বাবা। অন্যদিকে, শনিবার রাতে খড়িবাড়ির শিবুজোতে পুলিশের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হয় এক কিশোর।রবিবার রাতে পানিট্যাঙ্কির গৌরসিংজোতে পুলিশের অভিযানে লক্ষাধিক টাকার মাদক সহ গ্ৰেপ্তার হয় তিনজন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হল মহম্মদ সাহিদ, তার বছর ষোলোর ছেলে এবং উমেশ রাই। বাবা-ছেলে খড়িবাড়ির চর্নাজোতের বাসিন্দা। তৃতীয়জনের বাড়ি গণ্ডগোলজোতে। পোলট্রি ফার্মের আড়ালে সম্প্রতি সাহিদ মাদক কেনা-বেচা শুরু করেছিল।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে বিশেষ সূত্র মারফত খবর পেয়ে নকশালবাড়ি-পানিট্যাঙ্কি যাওয়ার রাজ্য সড়কে ওত পেতে থাকে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ। সন্দেহজনক একটি বাইক এলে আটক করে পুলিশ। বাইকে তিনজন ছিল। তাদের দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাবাদ করলে কথায় অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এরপর তল্লাশি চালালে তিনটি প্লাস্টিকের প্যাকেট প্রায় ৩০৫ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য চার লক্ষ টাকা।প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, উদ্ধার মাদক নকশালবাড়ি থেকে পানিট্যাঙ্কিতে পাচারের উদ্দেশ্য ছিল। পুলিশের তদন্তকারী এক অফিসার বলেন, মহম্মদ সাহিদ পানিট্যাঙ্কির কুখ্যাত এক মাদক কারবারির প্রতিবেশী। সেখানেই সাহিদের বড়মাপের একটি পোলট্রি ফার্ম আছে। তার আড়ালে কয়েক মাস ধরে মাদকের কারবার শুরু করে সে। পুলিশের সন্দেহ থেকে বাঁচতে নাবালক ছেলেকে নিয়ে মাদকের কনসাইনমেন্ট পানিট্যাঙ্কিতে আনছিল। সঙ্গে এলাকার এক মাদক কেরিয়ারকেও বাইকে বসিয়েছিল। পুলিশের অভিযানে তা ভেস্তে যায়।খড়িবাড়ি থানার ওসি অনুপ বৈদ্য বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। কোথা থেকে মাদক এনেছিল, কার হাতে তুলে দিতে যাচ্ছিল, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।অন্যদিকে, ওই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা আগে শনিবার রাতে খড়িবাড়ির ব্লকেরই শিবুজোতে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হয় এক কিশোর। কয়েকদিন আগে কাটিহারের এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে খড়িবাড়িতে তার আত্মীয়ের বাড়িতে আসে। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, ওই যুবক কিশোরের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সে কাটিহার ফিরে যায়। খবর পেয়ে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ ওই কিশোর যে বাড়িতে ছিল সেই বড়িতে অভিযান চালায়। তার হেপাজত থেকে দেশি পিস্তল উদ্ধার হয়। পাওয়া যায় এক রাউন্ড তাজা কার্তুজ। এরপরেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।প্রসঙ্গত, ১১ জানুয়ারি ভারত-নেপাল সীমান্ত পানিট্যাঙ্কির ধাকরু মোড়ে ২০৪ গ্রাম ব্রাউন সুগার সহ গ্ৰেপ্তার হয়েছিল খড়িবাড়ির বুড়াগঞ্জের নির্মল গোপ। তার আগে ৬ জানুয়ারি গণ্ডগোলজোতের একটি বাড়ি থেকে ১০১ গ্ৰাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছিল। সেখানে গ্রেপ্তার হয়েছিল একজন।