নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ১৯৮৮ সালের ভোটার লিস্টে নাম রয়েছে। তারপরও শুনানিতে এক বৃদ্ধাকে চরম হেনস্তা করার অভিযোগ উঠল জলপাইগুড়িতে। সাধারণ ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ এনে সোমবার জায়গায় জায়গায় হল বিক্ষোভ। বিডিও অফিসে স্মারকলিপি দিল তৃণমূল।জলপাইগুড়ি শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সেনপাড়ার বাসিন্দা বিমলা সেন। এদিন শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন সদর বিডিও অফিসে। সঙ্গে এনেছিলেন ১৯৮৮ সালের ভোটার তালিকা, উজ্জ্বলা গ্যাসের বই, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড। ছিল ব্যাঙ্কের বই, বিদ্যুতের বিল, আধারকার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড। কিন্তু এসব কিছুই শুনানিতে মান্যতা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বৃদ্ধার। তিনি বলেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কেন নাম নেই, সেটা জানতে চান অফিসাররা। আমি বলি, সেসময় বাইরে কাজে গিয়েছিলাম। কিন্তু অফিসাররা মানতে চাননি। তাঁরা জমির কাগজ নতুবা বাবা-মায়ের নথি দেখাতে বলেন।বৃদ্ধার দাবি, দীর্ঘদিন তিস্তা নদীর চরে বাস করেছি। জমির কাগজ পাব কোথায়! আর আমারই বয়স এখন প্রায় ৮০ বছর। কোন কালে বাবা-মা মারা গিয়েছে। তাঁদের নথি পাওয়া কি মুখের কথা?সদর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিনয় রায়ের তোপ, একজন ৮০ বছরের বৃদ্ধার কাছে তাঁর বাবা-মায়ের নথি চাওয়া হচ্ছে, এটা ইচ্ছাকৃত হয়রানি ছাড়া আর কী হতে পারে। যাদের জমির কাগজপত্র নেই। পড়াশোনা জানে না। নথিপত্র সংরক্ষণের বিষয়েও সচেতন নয়। সেসব মানুষগুলোর কি হবে? তারা কি ভোটাধিকার হারাবে?২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার মহুয়া দত্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করতে আমরা এদিন বিডিও অফিসে ছিলাম। দেখা যাচ্ছে, প্রত্যেকেই শুনানিতে যথাসম্ভব নথিপত্র নিয়ে আসছেন। কিন্তু সেসব গ্রহণ করা হচ্ছে না। আমাদের প্রশ্ন, কোন নথি গ্রহণ করা হবে? সংশ্লিষ্ট ভোটার বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন, এটা দেখাতে হবে? তাহলে কি মেনে নেবে নির্বাচন কমিশন? বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি শ্যামল রায়ের অবশ্য বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।সদর বিডিও অফিসে দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য হন ৮ নম্বর ওয়ার্ড বাবুপাড়ার বাসিন্দা সুপ্রীতি কামতি। মা বুলন্তি কামতিকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন সুপ্রীতি। একসময় বাধ্য হয়ে মায়ের কোলে একরত্তি মেয়েকে দিয়ে শুনানি কক্ষে যান সুপ্রীতি। অভিযোগ, শুনানি কেন্দ্রে হাজির হওয়া অসুস্থ কিংবা বয়স্কদের বসার মতো কোনও জায়গা করা হয়নি। সদরের বিডিও মিহির কর্মকার জানান, কাউকে হয়রানির অভিযোগ ঠিক নয়। কারও নাম কাটার উদ্দেশ্য নেই। প্রয়োজনীয় প্রামাণ্য নথি থাকলে নিয়ে আসার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।এদিকে, বাবার থেকে ছেলের বয়স ১৫ বছরের কম। এজন্য ময়নাগুড়ি বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজির হতে হয় ময়নাগুড়ি উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক শংকর পালকে। তিনি বিজেপি ও কমিশনের সমালোচনা করেন।এসআইআরে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তুলে শীতলকুচির বিডিও’কে এদিন গণ ডেপুটেশন দেয় তৃণমূল। দলের মুখপাত্র পার্থপ্রতিম রায় জানান, নামের সামান্য ভুল কিংবা ছোটখাট তথ্যগত ত্রুটির অজুহাতে ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠিয়ে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। আসলে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বাংলার বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। নস্য শেখ উন্নয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ এনে কোচবিহারের জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্পাদক আমিনাল হক। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখতে চেয়ে হলদিবাড়ি বিডিও অফিস চত্বরে সরব হয় তৃণমূল। মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ধূপগুড়িতে বিক্ষোভ মিছিল করে ধূপগুড়ি গ্রামীণ তৃণমূল।