পুরুলিয়ায় ফুলে সজ্জিত গুড় তৈরির তাঁবু পথচারীদের আকর্ষণে লাভবান শিউলি
বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, মানবাজার: শীতের আমেজ শুরু হতেই গ্রাম বাংলায় শিউলিদের খেজুর রস থেকে গুড় তৈরির ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। বেশি বিক্রির আশায় রাস্তার ধারে বিভিন্ন জায়গায় তাঁবু খাটিয়ে একেবারে বিজ্ঞাপনী ব্যানার টাঙিয়ে ক্রেতাদের নজর কাড়তে দেখা যায় শিউলিদের। তবে এবার এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়ে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন এক শিউলি। নাম মনোয়ার হোসেন দালাল। পুরুলিয়ার মানবাজারের বরাবাজার রাজ্য সড়কের চেপুয়া গ্রামের কাছে তাঁবু খাটিয়েছেন মানোয়ার। ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে সেই তাঁবুকে একেবারে রংবাহারি ফুল দিয়ে সাজিয়েছেন।খোলা রাস্তার ধারে আচমকাইচোখে পড়বে ফুলে সাজানো একটি তাঁবু। কৌতূহলী পথচারীরা থমকে দাঁড়াতেই সেই তাঁবু থেকে ভেসে আসে খেজুর গুড়ের মিষ্টি গন্ধ, সঙ্গে রংবাহারি ফুলের সুবাস। রাস্তা দিয়ে পেরোনো পথচারী থেকে শুরু করে পর্যটকদের ক্রেতায় পরিণত করতেই এমনই ব্যতিক্রমী কৌশল নিয়েছেন মনোয়ার ভাই। ওই শিউলির দাবি, সজ্জিত তাঁবু দেখে কেউ দাঁড়ালে খালি হাতে ফিরছেন না। আমার থেকে গুড় বা পাটালি কিনে বাড়ি ফিরছেন। কাজেই মানোয়ারের এই ফুলে সজ্জিত তাঁবু এখন শুধু গুড় বিক্রির জায়গাই নয়, বরং পথচারীদের জন্য এক মুহূর্তের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। যা বদলে দিয়েছে রোজগারের দিশাও।বাঁকুড়ার ইন্দপুর থেকে আগত মনোয়ার হোসেন দালাল রাস্তার পাশের ওই তাঁবুতে দুই ছেলেকে নিয়ে খেজুর গুরু তৈরি করেন। তাঁবুর ভিতর লাগিয়েছেন গেঁদা, চন্দ্রমল্লিকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রংবাহারি ফুল। রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই মনোরম ফুলের সাজসজ্জা পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সুন্দর পরিবেশে দেখে অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়ছেন তাঁবুর সামনে। তুলছেন ছবিও। সেইসঙ্গে পছন্দমতো গুড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।কিন্তু কেন এই উদ্যোগ? মনোয়ার ভাই বলেন, আগে তাঁবুতে গুড় তৈরি করে বাজারে নিয়ে যেতাম। সেখানে পাইকারকে বিক্রি করলে বেশি দাম পেতাম না। ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দাম দিত। খুচরো বিক্রি করলে ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত মেলে। পাটালিও কেজি প্রতি খুচরো ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। সেই কারণে এখানেই যেহেতু খুচরো গুড় বিক্রি বেশি হয়েছে, সেই কারণেই তাঁবু সাজানোর উদ্যোগ নিই। এতে পথচারী থেকে পর্যটকরাও দেখে দাঁড়াচ্ছে ছবি তুলছেন। গুড়ও কিনছেন।তিনি আরও বলেন, দু’বছর ধরে এভাবেই তাঁবু সাজাচ্ছি। এতে আগের তুলনায় বেশি লাভ হচ্ছে। এ বছরও ভালো বিক্রি হয়েছে গুড়। আগামী দিনে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তাবু সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।ওই সড়ক দিকে বাইকে যাওয়া ললিত দাস, সুলোচনা সর্দাররা বলেন, খুব ভালোভাবে মানোয়ার ভাই তাঁবুটা ফুল দিয়ে সাজিয়েছেন। দেখে বেশ ভালো লাগল। অনেকেই দেখছি ছবিও তুলছেন।