নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রামে দলেরই প্রচার গাড়িতে হামলা চালালেন বিজেপি নেতারা। মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে টোটোয় বাঁধা মাইক, ব্যানার খুলে দিলেন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য ও মণ্ডল সহ সভাপতি। সোমবার সোনাচূড়া ও কালীচরণপুরের এই ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্ব চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। দলেরই এক পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষর অনুগতরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ। ওই কর্মাধ্যক্ষর সঙ্গে নন্দীগ্রাম-৩ মণ্ডল সভাপতি বটকৃষ্ণ দাসের রেষারেষির কারণে এই ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। ভোটের মুখে নন্দীগ্রামে বিজেপির এহেন গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় অক্সিজেন পাচ্ছে তৃণমূল শিবির।গত ৪জানুয়ারি নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে ১০টি ব্লকে বিজেপির মোট ৩২টি প্রচার গাড়ির উদ্বোধন হয়। টোটোয় মাইক ও দলের ব্যানার বেঁধে তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালির পাল্টা প্রচার পর্ব শুরু হয়। সোমবার বিজেপির ওই প্রচার গাড়ি সোনাচূড়ায় পৌঁছলে তা আটকে দেন দলেরই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সুরজিৎ পাইক। একই ঘটনা ঘটে কালীচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতেও। সেখানে প্রচার গাড়ি আটকান দলেরই নন্দীগ্রাম-৩ মণ্ডলের সহ সভাপতি বিদ্যুৎ শী। দু’জনেরই নিশানায় ছিলেন বিজেপির নন্দীগ্রাম-৩ মণ্ডলের সভাপতি বটকৃষ্ণ দাস। তাঁরা বলেন, মণ্ডল সভাপতি বটকৃষ্ণ সবাইকে নিয়ে চলছেন না। মর্জিমতো বুথ সভাপতি নির্বাচন করছেন। স্থানীয় নেতৃত্বের কথা আলোচনা ছাড়াই বুথ সভাপতি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মণ্ডল নেতৃত্ব স্থানীয় নেতাদের গুরুত্ব না দেওয়া অবধি এখানে কোনও প্রচার কাজ চলবে না। নরেন্দ্র মোদি এরাজ্যে আসছেন। অথচ সভায় যাওয়ার জন্য কোনও ডাক আসেনি। যাঁরা দু’নৌকায় পা দিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁদেরই গুরুত্ব বাড়ছে। তাই প্রচার করা হবে না।দুই নেতা দু’জায়গায় দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েই টোটোয় বাঁধা দলীয় ব্যানার খুলে দেন। প্রচার গাড়ি থেকে মাইক নামিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তে ভাইরাল হয়। গত ৯ জানুয়ারি বিজেপি পরিচালিত গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন শিমুলকুণ্ডুতে কম্বল বিলি করতে যান স্থানীয় বিজেপির বুথ সভাপতি রবিশঙ্কর দাস। সেখানে দলের নেতাদের হাতেই তিনি বেধড়ক মার খান। রবিশঙ্কর নন্দীগ্রাম-৩ মণ্ডলের সভাপতি বটকৃষ্ণ গোষ্ঠীর নেতা বলে এলাকায় পরিচিত। সেই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সাহেব দাস ও প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি রামপদ দাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর ব্যাকফুটে সাহেব ও রামপদ। তারই পাল্টা হিসেবে এদিন বটকৃষ্ণ বিরোধী শিবির প্রচারের গাড়ি আটকেছে বলে দলের অন্দরের খবর। গোটা ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্ব অস্বস্তিতে পড়েছে।বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বটকৃষ্ণ দাস বলেন, এনিয়ে দলের জেলা নেতৃত্ব যা বলার বলবেন। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে দলে আলোচনা হবে। যে বা যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের সতর্ক করা হবে। সামনেই নির্বাচন। বিভেদ ভুলে সকলকে একযোগে লড়াইয়ে নামতে হবে।তৃণমূল কংগ্রেসের নন্দীগ্রাম-১ কোর কমিটির সদস্য বাপ্পাদিত্য গর্গ বলেন, নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় বিজেপি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত। গোয়ালঘরে গুঁতোগুঁতি শুরু হয়েছে। আদি-নব্যের সংঘাত তুঙ্গে উঠেছে। সোনাচূড়া ও কালীচরণপুরে আদি বিজেপির লোকজন দলেরই প্রচার গাড়ি আটকেছেন। বিজেপির পতাকা, ফ্লেক্স ছিঁড়ে দিয়েছেন। এখানকার বিজেপি বিধায়ককে বলব, আগে নিজের বিধানসভা সামলান। তারপর বাংলার দিকে তাকাবেন।