• শুনানিতে আসা অভুক্তদের খিচুড়ি আলুর দম খাওয়ালেন মন্ত্রী স্বপন
    বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান এবং সংবাদদাতা, কালনা: কেউ এসেছেন ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে, কারও বাড়ি আরও প্রত্যন্ত এলাকায়। শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। অনেকে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারছিলেন না। সোমবার তাঁদের অনেকেই হাজির হয়েছিলেন শুনানি কেন্দ্রে। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর পার হতে যায়, শুনানির জন্য ডাক আর আসে না। খিদের জ্বালায় অনেকেই অস্থির হয়ে পড়েন। এমন সময় একটা আওয়া‌জ কানে আসে– ‘তোমরা কেউ অভুক্ত থাকবে না। সবার জন্য খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কে কোন দল করো, তা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। পেট ভরে খেয়ে যাও’। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন দেখলেন, কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এমন আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁকে দেখে স্বস্তি পেলেন এসআইআরের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নাগরিকরা।স্থানীয়রা বলেন, এসআইআরের শুনানিতে এসে সাধারণ মানুষ চরম হয়রান হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে নাওয়া-খাওয়া ভুলে শুনানিতে অংশ নিতে হচ্ছে। সোমবার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বিডিও অফিস চত্বরে শুনানিতে আসা মানুষজনের অসহায়তার কথা ভেবে দুপুরে আহারের ব্যবস্থা করে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন ব্লকে শুনানিতে আসা মানুষজনকে দুপুরে নিজের হাতে খিচুড়ি ও আলুর দম পরিবেশন করেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের পাশে পেয়ে খুশি শুনানিতে আসা মানুষজন। শুনানিতে আসা লাইনে দাঁড়ানো মানুষজন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের জন্য বিজেপি নেতাদের দায়ী করছেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা-কর্মীদের পাশে না পেয়ে তাঁরা ক্ষোভ উগরে দেন।সোমবার ব্লক চত্বরে শুনানি কেন্দ্রে পাঁচ শতাধিক মানুষ সকাল থেকে লম্বা লাইন দেন। অনেকে সকালে এক কাপ চা খেয়ে, কেউ না খেয়েই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে যান। এমন দৃশ্য দেখে এলাকার বিধায়ক তাঁদের পাশে দাঁড়াতে কর্মীদের দুপুরের খাবারের আয়োজন করতে বলেন। খিচুড়ি ও আলুর দম। স্বপনবাবু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।স্বপনবাবু বলেন, বিজেপি যেমন নির্দেশ দিচ্ছে, কমিশন সেইরকম ফরমান জারি করছে। ওরা বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। আমরা কোনওভাবেই একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ দিতে দেব না। এদিন শুনানিতে আসা মানুষজন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত না খেয়ে লম্বা লাইন দিয়ে নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি নির্দেশ পালন করছেন। মানুষের অসহায় অবস্থা দেখে খারাপ লাগছে। আমাদের মনে হয়েছে, তাঁদের জন্য কিছু করা দরকার। সেজন্যই খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মায়েরা শিশুদের নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে আসছেন। মঙ্গলবার থেকে ছোটদের খাবারও রাখা হবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)