নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কাজে চূড়ান্ত গাফিলতির অভিযোগে গত ডিসেম্বরে আবর্জনা সংগ্রহকারী একটি সংস্থাকে ব্ল্যাক লিস্টেড করেছিল হাওড়া পুরসভা। পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা ও ওয়ার্ক অর্ডার বাতিলের মতো কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন নেই বলেই অভিযোগ। পুরসভা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিলেও শহরজুড়ে আবর্জনা সংগ্রহের প্রশ্নে যে ঢিলেমি ছিল, তা রয়েই গিয়েছে। প্রতিদিনের মতো বহু এলাকায় ভ্যাট থেকে নির্দিষ্ট সময়ে আবর্জনা না তোলায় ভোগান্তি বাড়ছে বাসিন্দাদের।বছরের পর বছর ধরে হাওড়া শহরের ভ্যাট থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে সরাসরি ফেলা হতো বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে। কিন্তু গত বছর মার্চ মাসে ওই ভাগাড় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে হাওড়ার আবর্জনা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হুগলির বৈদ্যবাটি ও কলকাতার ধাপা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। শহরের ৫০টি ওয়ার্ডের আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিবহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সাতটি সংস্থাকে। উত্তর হাওড়ার একাধিক ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা একটি সংস্থার বিরুদ্ধে একের পর এক গাফিলতির অভিযোগ উঠে আসে। শেষমেশ গত ডিসেম্বরে সংস্থাটিকে ব্ল্যাক লিস্টেড ঘোষণা করে পুরসভা। কিন্তু সংস্থা বদল হলেও পরিষেবা যে কে সেই রয়েছে, তা রাস্তাঘাটের চেহারা দেখলেই স্পষ্ট। অভিযোগ, জি টি রোডে সন্ধ্যাবাজার থেকে কাজিপাড়া পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ভ্যাটেই দিনভর আবর্জনা উপচে পড়ছে। একই ছবি কদমতলা, চ্যাটার্জিহাট, রামরাজাতলা, কালীবাবুর বাজার এলাকাতেও। উত্তর হাওড়ার সালকিয়া, পিলখানা, টিকিয়াপাড়ায় ভ্যাটগুলির অবস্থা তথৈবচ। এই ঢিলেমির বিষয়টি স্বীকার করেছে হাওড়া পুরসভার কনজারভেন্সি বিভাগ। এক বিভাগীয় কর্তার দাবি, কোথাও সমস্যা নজরে এলে বা বাসিন্দারা ছবি পাঠালে সঙ্গে সঙ্গে আবর্জনা তোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই গাফিলতির কারণ কী, সেই প্রশ্নে নিরুত্তর পুর প্রশাসন।পুরসভার আধিকারিকদের একাংশের দাবি, শহরের এক-তৃতীয়াংশ ওয়ার্ডে এখনও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প চালু হয়নি। ফলে ভ্যাট নির্ভর ব্যবস্থার উপরই পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে। একসময় শহরে ২৮৪টি রেজিস্টার্ড ভ্যাট থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা দু’শোর নীচে নামেনি। তার মধ্যেও শতাধিক ভ্যাটের অবস্থা বেহাল। কোথাও নিকাশি নালার সঙ্গে ভ্যাট মিশে গিয়েছে, কোথাও আবার ভ্যাটের অস্তিত্বই মুছে গিয়ে শুধু আবর্জনার স্তূপ পড়ে রয়েছে। পুরসভার নজরদারি ও পরিকল্পনার ঘাটতিতেই এমনটা হচ্ছে বলে অভিযোগ শহরবাসীর।