• পূর্ব মেদিনীপুরে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির দুই লক্ষ ৭৬ হাজার নোটিস বিলি বাকি
    বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে আড়াই লক্ষ নোটিস বিলি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে। আরও ২লক্ষ ৭৬হাজার নোটিস বিলি হওয়া বাকি। ধাপে ধাপে সেই কাজ চলছে। পাইকারি হারে নোটিস বিলোনোর প্রতিবাদে সোমবারও জেলায় বিক্ষোভ, অবরোধ অব্যাহত রইল। এদিন শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ৫৪নম্বর গোবরা বুথে নোটিস পাওয়া ভোটাররা রূপনারায়ণ বাঁধের রাস্তা আধঘণ্টার বেশি সময় অবরোধ করেন। নন্দীগ্রাম-১ বিডিও অফিসে বিএলওরা বিক্ষোভে শামিল হন। ২০০২সালের তালিকায় যে সমস্ত ভোটারদের নাম রয়েছে, তাঁদের শুনানির নোটিস প্রত্যাহার করার দাবি  তোলেন।তমলুকের বিডিও ওয়াসিম রেজা এইআরও হিসেবে এসআইআরের কাজ করছেন। তিনি নিজে শুনানি নিচ্ছেন। অথচ উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা ওই বিডিওকে নির্বাচন কমিশন নোটিস ধরিয়েছে। শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুরে ৫লক্ষ ২৬হাজার ভোটার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে নোটিস পাচ্ছেন। তার মধ্যে আড়াইলক্ষ নোটিস বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও ২লক্ষ ৭৬হাজার নোটিস পাঠানো বাকি। জেলাজুড়ে ১০০টি শুনানি টেবিল বাড়ানো হয়েছে। সুতাহাটা বিডিও অফিস লাগোয়া একটি স্কুলে এবং নন্দীগ্রাম বিডিও অফিস চত্বরে কর্মতীর্থেও শুনানি করার নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল।জেলাশাসক বলেন, আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বেশ কিছু শুনানি করব। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে কর্মতীর্থ ও সুতাহাটায় একটি স্কুলে শুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খারুই-১ পঞ্চায়েতের গোবরা বুথে ৫৮৫জন ভোটার রয়েছেন। তার মধ্যে ২২৭জন নোটিস পেয়েছেন। গ্রামের প্রায় ৪০শতাংশ ভোটারের কাছে নোটিস আসায় প্রচণ্ড ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সোমবার সেখানে মুক্তার আলি খান, শেখ রেজাবুল, আসিরুদ্দিন খান সহ বহু বাসিন্দা বিক্ষোভে শামিল হন।এদিন ওই ব্লকে সর্বদলীয় বৈঠক করেন বিডিও সুজিতকুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, নামের মিসম্যাচের কারণে বেশিরভাগ নোটিস ইস্যু হয়েছে। এধরনের ত্রুটি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে না। মানুষকে এবিষয়ে আশ্বস্ত করা দরকার। এটা সর্বদলীয় বৈঠকে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরেছি। এক মিনিটের মধ্যেই এক-একজনের শুনানি সেরে ফেলা হচ্ছে।নন্দীগ্রাম-১ বিডিও অফিসে এদিন বিএলওরা ডেপুটেশন দেন। তাঁরা বলেন, ২০০২সালের ভোটার লিস্ট বাংলা থেকে ইংরেজিতে ভাষান্তর করতে গিয়ে বানান ভুল হয়েছে। একারণেও শুনানির নোটিস আসছে। ম্যাপড ভোটারকেও নোটিস দেওয়া হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ নোটিস বিলি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ নোটিস বিলির সময় লাইভ ফটো আপলোড করার নির্দেশ আছে। সেটা রাতে করা সম্ভব নয়। রোজ এক-একটি টেবিলে চার-পাঁচশো ভোটারকে ডাকা হচ্ছে। একদিনে এত ভোটারের শুনানি কীভাবে সম্ভব? তাঁরা চান, বুথস্তরে গিয়ে শুনানি হোক। ১৮২নম্বর বুথের বিএলও প্রদীপকুমার আচার্য বলেন, বিডিওর কাছে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছি। সেসব গ্রাহ্য না হলে গণইস্তফার পথে হাঁটব।
  • Link to this news (বর্তমান)