• বন্ধ ঘরে প্রেমিক-প্রেমিকার দেহ, বর্ধমান শহরে চাঞ্চল্য
    বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের কালনাগেটের লোকো গোলঘর এলাকায় একটি বাড়ি থেকে প্রেমিক-প্রেমিকার মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ প্রেমিকের মৃতদেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রেমিকের মৃতদেহ বিছানার উপর পড়েছিল। বাড়ি ভাড়া নিয়ে তাঁরা আলাদাভাবে থাকতেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু প্রেমিকার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। দু’-তিনদিন আগেই তাঁরা মারা গিয়েছেন। পচা গন্ধ আসতে দেখে এলাকার বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। তাঁরা বর্ধমান থানায় খবর দেন। পুলিশ দরজা ভেঙে পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করে। সোমবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহ দু’টির ময়নাতদন্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম আকাশ দাস(২৫)। তাঁর বাড়ি শহরের বড়নীলপুর এলাকায়। যুবতী দেবলীনা করের(২১) বাড়ি শাঁখারিপুকুরে। আকাশ ফটোগ্রাফির কাজ করতেন। তাঁদের দু’জনের মধ্যে বহুদিন আগেই প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ে হওয়ারও কথা ছিল। তারপরও কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কালনাগেট এলাকার বাসিন্দারা বলেন, তাঁরা বাড়িভাড়া নিয়ে থাকলেও স্থানীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন না। রোজ বাইক নিয়ে তাঁরা বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। রাত ১১টা নাগাদ তাঁরা বাড়ি ফিরতেন।স্থানীয় বাসিন্দা রেণু মণ্ডল বলেন, বেশ কিছুদিন আগে ওঁরা বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। স্বামী-স্ত্রীর মতোই ওঁরা ছিলেন। তবে, কোনওদিন ওঁদের সঙ্গে কথা হয়নি। মাঝেমধ্যে দু’জনকে একসঙ্গে বের হয়ে যেতে দেখতাম। কী করতেন সেটাও জানতাম না। স্থানীয় আর এক বাসিন্দা বলেন, তিন-চারদিন ধরে ওঁদের দেখা যায়নি। মনে করা হচ্ছে, ওঁরা ওই সময়ের মধ্যেই মৃত্যুর পথ বেছে নেন। রবিবার দুপুর থেকে পচা গন্ধ আসতে থাকে। তবে কোথা থেকে গন্ধ আসছিল, তা বোঝা যাচ্ছিল না। পরে জানা যায়, বন্ধ ঘর থেকে পচা গন্ধ আসছে। এরপরই বর্ধমান থানায় খবর দেওয়া হয়। কাজের সুবিধার জন্যই তাঁরা ঘরভাড়া নিয়ে ছিলেন বলে বাড়ির মালিক জানতেন।বর্ধমান থানার পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। যুবক গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা গিয়েছেন। তবে প্রেমিকার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বড়নীলপুরের বাসিন্দারা বলেন, আকাশ এলাকায় ভাল ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। খুব চাপা স্বভাবের ছিলেন। কারও সঙ্গে কোনওদিনই অশান্তিতে জড়াননি। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকস্তব্ধ ওই যুবতীর পাড়ার বাসিন্দারাও। তাঁদের দু’জনের বিয়ে হবে বলে এলাকার বাসিন্দারাও জানতেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)