সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: ফাওলাই থেকে রেশন। এমন সুযোগ সুবিধা নিয়ে পাহাড়ে বন্ধ ন’টি চা বাগানের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত রাজ্য সরকার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র এবং পাহাড়ের অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্র কব্জায় রাখলেও বিজেপি নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় সরকার চা শ্রমিকদের জন্য কিছু করেনি বলে অভিযোগ। বরং এসআইআরের নামে শ্রমিকদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে এর জবাব দিতে সলতে পাকাচ্ছে অনীত থাপার দল বিজিপিএম। যদিও বিজেপি বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, হাওয়া গরমের রাজনীতি করছে বিজিপিএম।দার্জিলিংয়ের অর্থকারী ফসলের মধ্যে চা অন্যতম। এখানকার চা জগৎ বিখ্যাত। এখানেই ন’টি চা বাগান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সংশ্লিষ্ট বাংলাগুলির মধ্যে অধিকাংশের শ্রমিকরা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানিঘাটা, মুণ্ডাকুটি, রুম্বুকসিজার, চুংথুং, পেশক, ধোতরে সহ ন’টি বাগান বন্ধ এখন। সংশ্লিষ্ট বাগানগুলিতে শ্রমিক প্রায় ১০ হাজার। তাঁদের কেউ বেকার হয়ে বসে আছেন। আবার কেউ কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন।অনীত থাপার দল বিজিপিএমের শ্রমিক সংগঠন হিল, তরাই, ডুয়ার্স প্ল্যান্টার্স ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি জেবি তামাং বলেন, বন্ধ ওই বাগানগুলির মধ্যে ছ’টি বাগানের শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার। তারা প্রত্যেক শ্রমিককে মাসে ১৫শো টাকা করে ফাওলাই প্রদান করছে। এছাড়া নিয়মিত রেশন দিচ্ছে। শীঘ্রই তিনটি বাগানে ফাওলাই চালু হবে। রাজ্য সরকারের এমন ভূমিকায় শ্রমিকরা রীতিমতো খুশি।প্রসঙ্গত, দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন বিজেপির কব্জায়। দার্জিলিং ও কার্শিয়াং বিধানসভা কেন্দ্র দু’টিও পদ্ম শিবিরের অধীনে। বন্ধ বাগানের শ্রমিকরা বিজেপির উপর রীতিমতো ক্ষুব্ধ। বিজিপিএমের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি বলেন, বার বার ভোট দিয়ে জেতালেও বন্ধ বাগানের শ্রমিকদের কোনও লাভ হয়নি। চা বাগানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কোনও প্যাকেজ প্রদান করেনি। বরং এসআইআরের নামে এখন চা শ্রমিকদের হয়রান করা হচ্ছে। আধারকার্ড সহ বিভিন্ন ধরনের নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েও সুরাহা মিলছে না। অনেকেই ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কা করছেন। পাহাড়ের প্রতিটি বাগানেই শ্রমিকদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ মিলছে। এবারের ভোটে শ্রমিকরা বিজেপির বিরুদ্ধেই জবাব দেবে বলে আশা করছি।বিজেপির দার্জিলিং পার্বত্য সংগঠন অবশ্য অভিযোগ নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ। দলের জেলা সভাপতি সঞ্জীব লামা বলেন, ভোটের মুখে হাওয়া গরম করার উদ্দেশ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে বিজিপিএম। এতে তাদের কোনও লাভ হবে না। এবারও পাহাড়ে বিজেপির জয় মিলবে।