নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাতাসে মিশছে বিষ! সেই অদৃশ্য বিষে আক্রান্ত হচ্ছে শরীর। বায়ু দূষণের জেরে গত কয়েক বছরে বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে ফুসফুসের অসুখ। এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের। এবার এই বায়ুদূষণ রোধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিশেষত শহর কলকাতার দূষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হাইকোর্ট এবার এ বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে।জানা গিয়েছে, কলকাতার দূষণ নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে খোদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। একাধিক গুরুতর বিষয়ে আদলত চাইলে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করতেই পারে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এর আগে রাজ্য তথা কলকাতার দূষণ সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার নজির নেই বললেই চলে। সোমবার দূষণ সংক্রান্ত দু’টি জনস্বার্থ মামলা প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানির জন্য উঠেছিল। তখনই এই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরর কথা উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি।তিনি আরও জানিয়েছেন, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের পর এই মর্মে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এজলাসে কেন্দ্রের তরফে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সেই চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকারও করে নিয়েছেন। এই স্বতঃপ্রণোদিত মামলার সঙ্গে দূষণ নিয়ে ইতিমধ্যে দায়ের হওয়া দু’টি জনস্বার্থ মামলা জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। আগামী ২৮ জানুয়ারি এই মামলাগুলির শুনানির সম্ভাবনা। সেদিন সব পক্ষকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।এর আগে পার্ক সার্কাসে সার্কাস শো আয়োজনের ফলে দূষণের অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। এছাড়া, রবীন্দ্র সরোবরে ছট পুজোকে কেন্দ্র করে দূষণ নিয়েও দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। শধু তাই নয়, ময়দান চত্বরে পাতা পোড়ানোর জন্য বায়ু দূষণের অভিযোগে যে মামলা দায়ের হয়েছিল, তাও হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু সেসব কলকাতার একটি নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক বিষয়। এই প্রথম সামগ্রিক কলকাতার দূষণকে কেন্দ্র করে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল খোদ হাইকোর্ট। যা রীতিমতো বেনজির বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা। তাঁদের বক্তব্য, কলকাতার বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত ভাবে মিশে রয়েছে ঘাতক নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং ওজোনের মতো গ্যাস। হাইকোর্টের এই পদক্ষেপের পর মামলায় কী নির্দেশ আসে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পরিবেশবিদরা।