• সাগর দত্তে মৃতার কানের দুল চুরি, সোনার বালাও খুলে নেওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্ত সিসিইউ কর্মীরা
    বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: মৃতদেহ থেকে চোখ চুরির অভিযোগে উঠেছিল  বারাসত মেডিকেল কলেজে। এবার মৃত বৃদ্ধার কানের সোনার দুল চুরির অভিযোগ উঠল সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে! শুধু তাই নয়, ওই বৃদ্ধার হাতের সোনার বালাও খোলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। এহেন অভিযোগে স্বভাবতই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত বৃদ্ধার পরিবার ইতিমধ্যে কামারহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। কয়েকদিন আগে এই হাসপাতালেই ময়নাতদন্তের জন্য মৃতের পরিবারের থেকে ৫০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এক কর্মী। তার রেশ কাটতে না কাটতে মৃতার কান থেকে সোনার দুল চুরির অভিযোগ সামনে এল।ঘোলা থানার সোদপুর গৌরাঙ্গনগরের বাসিন্দা শোভা বসাক (৬৫)। তিনি বিএসএনএলে চাকরি করতেন। তাঁর স্বামী মনোরঞ্জন বসাকও ওই রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থার প্রাক্তন কর্মচারী। বয়সজনিত অসুস্থতায় তিনি আগেই মারা গিয়েছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত শোভাদেবী বেশ কিছুদিন ধরে ভুগছিলেন। তাঁকে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখান থেকে তাঁকে গত ১৬ জানুয়ারি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রাত ১০টা নাগাদ ইমার্জেন্সির চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা করে তাঁকে চারতলার মেডিসিন বিভাগে পাঠান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই রাতেই তাঁকে সিসিইউতে দেওয়া হয়। পরদিন দুপুর সাড় ১২টা নাগাদ মৃত্যু হয় শোভাদেবীর। পরিবারের সদস্যরা সিসিইউতে গিয়ে মৃতদেহ দেখে আসেন। হাসপাতালের তরফে বলা হয়, চার ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বিকেল ৫টা নাগাদ দেহ হস্তান্তর করা হবে। মৃতদেহ নেওয়ার জন্য সইসাবুদ করার সময় বাড়ির লোকজন বুঝতে পারেন, বৃদ্ধার কানের সোনার দুল খোয়া গিয়েছে। শোভাদেবীর নাতি প্রণব দাস বলেন, ‘আমি, মামা সহ পরিবারের সবাই সিসিইউতে গিয়ে দিদার দেহ দেখেছি। তখন দিদার দু’হাতে সোনার বালা ও কানে দুল ছিল। ওই অবস্থায় সোনার গয়নাগুলি খুলে আনার কথা ভাবতে পারিনি আমরা। বিকেল ৫টা নাগাদ মৃতদেহ রীতিমতো প্যাকিং করে আমাদের দেওয়া হয়। আমরা ভেবেছিলাম, এটাই হয়তো নিয়ম। কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, মৃতের শরীরে দুটো সোনার বালা রয়েছে। তখনই সন্দেহ হয়। আমরা দেখি, কানের দু’টি দুল উধাও। এক হাতের বালা খোলা। সেটি কোমরের ঘুনসির সঙ্গে বাঁধা। অন্য হাতের বালাও খোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু হাত ফুলে থাকায় সেটি খোলা যায়নি। বালা খুলতে গিয়ে হাতের চামড়া পর্যন্ত তুলে দিয়েছে। আমাদের ধারণা, ওটি খুলতে পারায় অন্য বালাটি খুলেও ঘুনসিতে বেঁধে দিয়েছে। ওটা খুলতে পারলে সব নিয়ে নিত। দিদার মৃতদেহ নিয়ে আমরা প্রায় ৭টা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিলাম। ওরা বলল, কানে দুল ছিল না। পরে আমরা কামারহাটি থানায় অভিযোগ দায়ের করি।’ হাসপাতালের সুপার সুজয় মিস্ত্রি বলেন, ‘রোগীর সঙ্গে কোনও মূল্যবান সামগ্রী না রাখার কথা ভর্তির সময়েই  বলে দেওয়া হয়। কোনও সামগ্রী খোয়া গেলে আমরা কী করতে পারি? যদিও এমন ঘটনার কথা আমার জানা নেই।’ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)