• ডালহৌসি-বড়বাজারে যত্রতত্র পার্কিং, গতিহীন শহর, ডালহৌসি-বড়বাজারে যত্রতত্র পার্কিং, গতিহীন শহর
    বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডালহৌসি, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট হল কলকাতার ব্যবসা ও অফিসের কেন্দ্রস্থল। এই এলাকার রাস্তাগুলির দু’ধারে যত্রতত্র রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের এরিয়া। কলকাতা পুরসভার অফিসিয়াল পার্কিং লট আছে। কিন্তু তার সীমানা পার করেও অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে রাখা হচ্ছে গাড়ি। তার জেরে যানজট বাড়ছে বলে অভিযোগ।কলকাতা পুলিশের সমীক্ষা অনুযায়ী, দিনের অধিকাংশ সময় ডালহৌসি, বড়বাজার চত্বরে বাড়ছে ট্র্যাভেল টাইম বা যাত্রার সময়। সমস্যা কাটাতে আচমকা টহলদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে লালবাজার। অবৈধ পার্কিংয়ের জট কাটাতে ঩হেড কোয়ার্টার ও সাউথ ট্রাফিক গার্ডকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) শ্রীকান্ত জগন্নাথরাও। সম্প্রতি লালবাজারে দুই ট্রাফিক গার্ডের অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাফিক কর্তা। একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভাকেও একটি চিঠি দিয়েছেন তিনি। তাতে ফুটপাতের রেলিং দ্রুত মেরামত করার জন্য বলা হয়েছে।২০২৫ সালে শহরের ট্রাফিকের হালচালের বিষয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সমস্যার বিষয় উঠে এসেছে। লালবাজারের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দিনের যে কোনও সময় ডালহৌসি চত্বর ও আশপাশের সব রাস্তায় তীব্র যানজট লক্ষ্য করা যায়। তার মধ্যে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রাস্তা হল, বেন্টিক স্ট্রিট, ইন্ডিয়া এক্সচেঞ্জ প্লেস এরিয়া, গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, হেমন্ত বসু সরণি, এনএস রোড, আরএন মুখার্জি রোড। এই সবকটি রাস্তাতেই অবৈধ পার্কিং হয় বলে জানিয়েছে লালবাজার। উল্লেখযোগ্যভাবে এই রাস্তাগুলির দূরত্ব কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে। ফলে এই এলাকাগুলিতে ট্রাফিক পুলিশের নজর বেশি থাকা উচিত। কিন্তু তা যে নেই এই বিষয়টি স্পষ্ট বলে অভিযোগ উঠছে। তাহলে কি অবৈধ পার্কিংয়ের দিকে নজর দেন না সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক গার্ডের অফিসাররা? এই বিষয়টি নিয়ে লালবাজারে বৈঠক করেন ডিসি ট্রাফিক। তাঁর নির্দেশ, দ্রুত এই রাস্তাগুলি থেকে অবৈধ পার্কিং সরাতে হবে। প্রতিদিন কমকরে তিনবার রাস্তাগুলিতে টহলদারি চালাতে হবে। দেখা গিয়েছে, ফুটপাতের উপরও বাইক পার্ক করে রাখা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন। বাড়ছে দুর্ঘটনা আশঙ্কা। ডিসি ট্রাফিকের নির্দেশ, ‘কোথাও অবৈধ পার্কিং থাকলে জরিমানা করা হবে।’মধ্য কলকাতার এই অংশে অফিস টাইমে প্রচুর সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। বেশিরভাগ পথচারীই ফুটপাতের বদলে ব্যবহার করেন মূল রাস্তা। অনেক জায়গাতেই ভেঙে গিয়েছে লোহার রেলিং। এই সমস্যা রয়েছে দ্রুত গতির রেড রোডেও। যার ফলে রাস্তায় পথচারীরা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। সমস্যার সুরাহার জন্য কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের তরফে কলকাতা পুরসভা ও পূর্তদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, চিঠিতে পুলিশের সঙ্গে যৌথ পরিদর্শনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে পুরসভা ও পূর্তদপ্তরকে। কোথায় কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)