• ফর্ম ৭ জমার শেষ দিনেও গণ্ডগোল, অবরোধ, ২ বিধায়ককে ঘিরে ক্ষোভ
    বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ফর্ম ৬ ও ফর্ম ৭ জমার শেষ দিন ছিল সোমবার। দু’টি ক্ষেত্রেই বিক্ষিপ্ত উত্তেজনা ছড়াল। পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল। কোথাও বিজেপি নেতার হাত থেকে ফর্ম কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল।৭ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বনগাঁ। বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার কাছ থেকে ফর্ম ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। সোমবার সকালে অশোক কীর্তনিয়া বনগাঁ এসডিও অফিসে বেশ কিছু ফর্ম জমা দিতে আসেন। অভিযোগ, তৃণমূল নেতা সেই ফর্ম ছিনিয়ে নেন। এরপর তৃণমূল কর্মীরা অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। দীর্ঘক্ষণ এসডিও অফিসে আটকে থাকেন বিধায়ক। বিকেল চারটে নাগাদ পুলিশ ও বিধায়কের নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে বের করে নিয়ে যান। অশোক কীর্তনিয়া বলেন, তৃণমূল নেতা পল্লব মিত্র ফর্ম ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে। তৃণমূল যুব নেতা পল্লব মিত্র বলেন, সাধারণ ভোটাররা ফর্ম ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে। বাগদা বিডিও অফিসেও উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করেছে। এর সঙ্গে তৃণমূলের যোগ নেই। হয়রানির প্রতিবাদে কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে কামারহাটির সিপিএম নেতৃত্ব। ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায়, সায়নদীপ মিত্র।কল্যাণী মহকুমা শাসকের অফিসের বাইরে উত্তেজনা ছিল। ফর্ম ৭ জমা দিতে যাওয়া বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়কে ঘিরে বিক্ষোভ তৃণমূলের। বিধায়ক বলেন, তৃণমূলের জমানায় মানুষের স্বাধীনতা নষ্ট হয়েছে। বারাকপুরেও  ফর্ম ৭ জমা দিতে পারেনি বিজেপি। বিজেপি নেতা তাপস ঘোষের নেতৃত্বে কয়েকশো ৭ নম্বর ফর্ম নিয়ে আসেন। ইআরও সেই ফর্ম নিতে অস্বীকার করলে ফর্ম জমা দেওয়া যায়নি। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার সূর্যপুর বলবলিয়া মোড়ে সিপিএম কর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। কুলপি রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পদ্মেরহাট হসপিটাল মোড়ে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করা করা। নাগরিক মঞ্চের ডাকে সমস্ত রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই পথ অবরোধে শামিল হয়েছেন। জয়নগর এক নম্বর ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি শামিম আহমেদ ঢালী বলেন, এসআইআর নিয়ে হেনস্তার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। জয়নগর থানার আইসি ও বিডিওকে ঘটনাস্থলে যেতে হয়। বাসন্তী থানার ভাঙনখালি এলাকায় রাজ্য সড়কের উপর টায়ার ও খড় জ্বালিয়ে চলে প্রতিবাদ। মগরাহাট এক নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায় শতাধিক কর্মী-সমর্থক।  এছাড়া সিপিএম সমর্থকদের সঙ্গেও পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়।উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা ব্লকে ৫২ হাজার মানুষকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে। আমডাঙা ব্লক অফিসে হিয়ারিংয়ের লম্বা লাইন দেখা যায়। এর জেরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে যানজট শুরু হয়।তারকেশ্বর বিডিও অফিসের সামনে তারকেশ্বর-কাঁড়ারিয়া রোডে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। বিক্ষোভের আঁচ গিয়ে পড়ে তারকেশ্বর- চকদিঘি বর্ধমান রোডে। চালপট্টিতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে তৃণমূল সমর্থকরা। যানজট তৈরি হয় রাস্তায়। তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় জানান, নির্বাচন কমিশন চক্রান্ত করে একাধিক সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। জাঙ্গিপাড়া ভিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। হরিপালে সিপিএমের পক্ষ থেকে এসআইআরের নামে হেনস্তার প্রতিবাদে হরিপাল বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। হাওড়া জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে ধরনায় বসে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নেতৃত্ব জেলাশাসকের দপ্তরে প্রায় ৫০টি ফর্ম জমা দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। ফর্ম জমা ঘিরে দিনভর হুগলি জেলা সরগরম হয়ে রইল। চুঁচুড়া সদরের মহকুমা শাসকের অফিসে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। বিজেপি একগুচ্ছ ফর্ম ৭ জমা করে গিয়েছিল। তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক অসিত মজুমদার দলবল নিয়ে সেখানে যান। তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির আনা ফর্ম ছিঁড়ে দেয়।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)