• শিল্প নিয়ে নীরব কেন প্রধানমন্ত্রী? নীচুতলার প্রশ্নে বেসামাল পদ্মপার্টির হুগলি নেতৃত্ব
    বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শিল্প নিয়ে বিপাকে পড়ে এবার নেতৃত্বের কাছে জবাব চাইতে শুরু করেছেন হুগলির নীচুতলার বিজেপি কর্মীরা। আর কর্মী মহলের লাগাতার প্রশ্নের মুখে সংগঠন পরিচালনা নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে হুগলির জেলা বিজেপি নেতৃত্বের। বস্তুত, নীচুতলার কর্মীরা দলের জেলা নেতাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিঙ্গুরের শিল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা দলের মুখ পুড়িয়েছে। এই অবস্থায় সিঙ্গুর তো বটেই অন্য এলাকাতেও দলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানুষকে কোনও প্রতিশ্রুতির কথাই আর বলা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় কীভাবে সংগঠন করা হবে, তার জবাব চেয়েছেন নীচুতলার কর্মীরা। ফলত, অক্সিজেন পাওয়ার স্বপ্ন দেখা বিজেপি সংগঠনে অক্সিজেনের ঘাটতি বেড়ে গিয়েছে।দলের জেলা নেতৃত্বের একাংশের দাবি অবশ্য, শিল্প নিয়ে বেড়ে খেলতে গিয়েই হয়েছে বিপত্তি। ওই ব্যাপারে রাজ্য নেতাদের ভূমিকা নিয়েও দলের জেলা স্তরের নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দাপুটে নেতা বলেন, আমাদের রাজ্য নেতৃত্বই এই সমস্যার জন্য দায়ী। ‘শিল্প আসছে’ বলে আমাদের দিয়ে প্রচার করালেন তাঁরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে সেই কথাটি বলাতেই পারলেন না। তাতে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগই (মিথ্যে প্রতিশ্রুতি আর লাগাতার বঞ্চনা) সিলমোহর পেয়ে গেল। ওইসঙ্গে আরও বেড়ে গেল সংগঠন করার চাপ। এমনিতেই দলের ‘ভবিষ্যৎ’ বলে কিছু ছিল না, এখন কর্মীরা বাড়িতে ঢুকে পড়লে অফিসে বাতি দেওয়ার লোকটাও থাকবে না।বস্তুত এদিনই সিঙ্গুরের রতনপুরে সভা করেছে তৃণমূল। সেখানে বেচারাম মান্না এবং তৃণমূলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব বিজেপির ভাঁওতা নিয়ে সরব হয়েছেন। বেচারাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল মিথ্যে প্রতিশ্রুতিই দেন। সিঙ্গুরে শিল্প করার মিথ্যাচার পদ্মপার্টির প্রধানমন্ত্রীই প্রকাশ্যে এনে দিয়েছেন। ওঁরা রাজ্যের সব জায়গা থেকে শিল্প গড়ার বার্তা দেওয়ার কথা বলে লোক এনেছিলেন। বাংলা তথা সিঙ্গুরের সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী একজনই, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তবে বিজেপির জেলা নেতা সুরেশ সাউ বলেন, দলে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। রাজ্যে শিল্প আনার রাস্তা মোদিজি স্পষ্ট করেই দেখিয়েছেন। তিনি রবিবার বলেছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বদলাতে হবে, তবেই শিল্প আসবে। বিজেপির সরকার এলেই ‘শিল্পনগরী’ হবে সিঙ্গুর এবং ‘শিল্পায়ন’ হবে বাংলায়। দলের অনেক কর্মী বিষয়টি বুঝতে পারেননি। আমাদের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কথা তাঁদের বুঝিয়ে বলা। আমরা মানুষের কাছে সেই বার্তা নিয়েই যাচ্ছি। বিজেপির মণ্ডল স্তরের এক দাপুটে নেতা বলেন, ওইসব কথা দলের মধ্যেই বলা যায়। কিন্তু বাস্তবে মানুষ যা বোঝার তা বুঝেই গিয়েছেন। মোদ্দা কথা, আমাদের ফানুস ফুটো হয়ে গিয়েছে। কথার জাদুতে আর তাপ্পি দেওয়া যাবে না।সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে সভা করিয়ে শিল্পবার্তা দিতে চেয়েছিল বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রামীণ উন্নয়নের ‘বিকল্প উন্নয়ন পরিকল্পনা’ পেশের দাবি করেছিল পদ্মপার্টি। ওই হেভিওয়েট সভার আগে সেভাবেই জোর প্রচারও করা হয়েছিল সর্বত্র। কিন্তু বাস্তবে সভার দিন প্রধানমন্ত্রী শিল্প নিয়ে কার্যত কিছুই বলেননি! আর তাতেই বিপাকে পড়েছে হুগলিতে পদ্মপার্টি।
  • Link to this news (বর্তমান)