ছোটো শিল্পের প্রসারে কেন্দ্রকে পৃথক কাউন্সিল গড়ার আরজি
বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষুদ্র, ছোটো ও মাঝারি শিল্পের পাশে দাঁড়াতে আলাদা এমএসএমই মন্ত্রক চালু রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেক্ষেত্রে মাঝারি শিল্পকে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, ক্ষুদ্র এবং ছোটো শিল্পের প্রতি নজর ততটা পড়ে না। তাই এই মন্ত্রকের আওতায় আলাদা একটি কাউন্সিল তৈরি করা হোক, যেখানে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র ও ছোটো শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগে অর্থমন্ত্রককে এই আরজি জানালো ছোটো শিল্পের সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ‘ফেডারেশন অব অ্যাসোসিয়েশনস অব কটেজ অ্যান্ড স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ’। তাদের বক্তব্য, আলাদা কাউন্সিল থাকলে ছোটো শিল্পগুলি যেমন সেখানে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবে, তেমনই সরকার বা প্রশাসনের তরফেও আলাদাভাবে নজরদারি সম্ভব। শিল্পের সমস্যা ও দাবিগুলি নিয়ে আলোচনায় অনেকটাই সাহায্য করবে এই কাউন্সিল। ফেডারেশনের সভাপতি হিতাংশুকুমার গুহ বলেন, ‘ছোটো শিল্পের ক্ষেত্রে এখনও বেশ কিছু প্রশাসনিক জটিলতা রয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম জিএসটি রিটার্ন। আমাদের দাবি, এক্ষেত্রে একটি মাত্র সরলীকৃত রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করা হোক। রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে যদি পদ্ধতিগত কোনও ত্রুটি থেকে থাকে, সেক্ষেত্রে লঘু পাপে যাতে গুরু দণ্ড না হয়, তার ব্যবস্থা করুক কেন্দ্র। এক্ষেত্রে যেন করদাতাকে ক্রিমিনাল হিসেবে না দেখা হয়।’পাশাপাশি, বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করার পর সরকারের তরফে যদি পণ্যের দাম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না মেলে, সেক্ষেত্রে সুদ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে বলেও দাবি ফেডারেশনের। তাদের দাবি, ১৫ দিনের মধ্যে যদি সরকার তার বকেয়া না মেটায়, তাহলে সুদ প্রদান করতে হবে ছোটো শিল্পকে। হিতাংশুবাবু বলেন, ‘ছোটো শিল্পের পণ্যের বাজার বাড়াতে জেম পোর্টাল চালু করেছে কেন্দ্র। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি যখন কোনো পণ্য কেনে, তা কেনা হয় এই পোর্টাল থেকে।’ বড় শিল্পের পাশাপাশি যাতে ছোটো শিল্পও এই পোর্টালের মাধ্যমে সরকারের কাছে পণ্য বিক্রিতে এগিয়ে আসতে পারে, তার জন্য কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু এই পোর্টালে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে বিরাট কোনও সুবিধা মেলে না ছোটো শিল্পের জন্য। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে এই খরচে কিছুটা আর্থিক সুবিধা দিক কেন্দ্রীয় সরকার, এমনটাই দাবি করেছেন হিতাংশুবাবুরা।