জিএসটি ট্রাইবুনালের শুরুতেই ২ লক্ষ আবেদন জমার সম্ভাবনা
বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এখনও জিএসটি অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল চালুই করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। তা চালু হলে, শুরুতেই প্রায় ২ লক্ষ মামলার আবেদন জমা পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারও আশায় আছে, এই ট্রাইবুনাল চালু হলে তারা জিএসটি বাবদ অন্তত আট হাজার কোটি টাকা আদায় করতে পারবে।জিএসটি সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে, তার মীমাংসার জন্য অ্যাপিলেট অথরিটি রয়েছে। করদাতারা এখানে আপিল করতে পারেন। এক্ষেত্রে সঠিক সুরাহা মেলেনি মনে করলে ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে জিএসটি আইনে। ২০১৭ সালে জিএসটি ব্যবস্থা শুরু হলেও ট্রাইবুনালের পরিকাঠামো এতদিনেও তৈরি করে উঠতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৪ সালের মে মাসে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয় বিচারপতি সঞ্জয়কুমার মিশ্রকে। এরপর প্রতিটি রাজ্যে একটি করে ট্রাইবুনাল বেঞ্চ তৈরি হওয়ার কথা। সেগুলিতে ১২৮ জন মেম্বার বা সদস্য নিয়োগ হওয়ার কথা। তাঁদের মধ্যে ৯১ জন সদস্য নিয়োগ করার কথা চলতি মাসেই। সূত্রের খবর, দিল্লির প্রধান ট্রাইবুনালটির সঙ্গে একযোগে সবকটি রাজ্যে বেঞ্চ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে গত ডিসেম্বর থেকে ট্রাইবুনালের বেঞ্চ চালু হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সদস্য নিয়োগের জটে তা আটকে যায়। যদিও কলকাতার আলিপুরে বেঞ্চের পরিকাঠামো সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন জিএসটি কর্তারা।বণিকসভা বেঙ্গল চেম্বার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাইবুনালের প্রেসিডেন্ট সঞ্জয়কুমার মিশ্র বলেন, জিএসটি সংক্রান্ত মীমাংসার মামলা প্রথম অ্যাপিলেটেই জমে আছে প্রায় ৫ লক্ষ ৮২ হাজার। এর মধ্যে যদি ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মামলা ট্রাইবুনালে আসে, তাহলে প্রায় ২ লক্ষ মামলা মীমাংসার জন্য অপেক্ষা করবে এখানে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ওই আবেদনগুলি ট্রাইবুনালে জমা পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। জিএসটি সংক্রান্ত মীমাংসার জন্য করদাতারা যেমন এখানে আবেদন করতে পারেন, তেমনই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় জিএসটি দপ্তরও মামলা দাখিল করতে পারে।বিচারপতির আরজি, যাঁরাই আবেদন করুন না কেন, তাঁরা যেন সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দেন। শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ, তাতে মীমাংসায় বিলম্ব হতে পারে। পাশাপাশি আবেদনে যদি ছোটোখাটো প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকে বা আবেদনকারী নিজেই কোনও ছোটোখাটো ভুলচুক করেন, তাহলে তা রেজিস্ট্রারের তরফে গৃহীত নাও হতে পারে। রাজ্য জিএসটি কর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাইবুনাল চালু হলে তাঁরা সেখানে কর সংক্রান্ত মীমাংসার মামলা করবেন। তাতে আট হাজার কোটি টাকা রাজস্ব বাবদ সরকারের ঘরে আসতে পারে বলে আশায় আছেন তাঁরা। কর্তাদের কথায়, ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেঞ্চের জন্য সদস্যের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। সেখান থেকে অতি শীঘ্রই সদস্য বেছে নেওয়া হবে। সার্বিকভাবে আগামী মার্চের মধ্যে বেঞ্চ চালু হওয়া নিয়ে আশাবাদী তাঁরা। অন্যদিকে সেন্ট্রাল জিএসটি বিভাগ মনে করছে, কলকাতা জোন থেকে প্রায় পাঁচ হাজার আবেদন গোড়াতেই জমা পড়বে ট্রাইবুনালে।