নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু একদিনে, তাও দৌড়ে। লাদাখ ম্যারাথনে ২১ কিমি দৌড় ধুতি-পাঞ্জাবিতে। সাইকেল চালিয়ে খারদুংলা। শেষ ২ বছরে ৪৯টি ম্যারাথনে অংশগ্রহণ। গত নভেম্বরে মালয়েশিয়ায় আয়রন ম্যান পুরস্কার জয় এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের হাত থেকে সম্মান গ্রহণ। এহেন বিপ্লব দাসকে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচির মুখ হিসাবে তুলে ধরল বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। এই কমিশনারেটেই সিভিক ভলান্টিয়ার পদে কর্মরত বিপ্লব। মুখে মুখে তাঁকে এখন ‘সিভিক আয়রন ম্যান’ বলে ডাকা হচ্ছে।রাজমিস্ত্রি ঘরের ছেলে বিপ্লব। ২০১৩ সালে দুর্ঘটনায় বাবার কোমর ভেঙে যাওয়ার পর পেটের টানে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিতে যোগদান করেন। দিনের পর দিন কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে কাজ করেছেন। নিজে হাতে একাধিক দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষকে তুলে পাঠিয়েছেন হাসপাতালে। আর একাজ করতে গিয়ে তিনি বারবার ভেবেছেন, মানুষের মধ্যে পথ নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতার পাঠ আরও দরকার। তাই বেছে নিয়েছেন অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসকে। তার মাধ্যমে প্রচার করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচি।তবে নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়ায় আয়রন ম্যান পুরস্কার পেতে গিয়ে বিরাট সমস্যায় পড়তে হয়েছিল তাঁকে। যদিও বর্তমান পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এই ধরনের স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারীদের তিন লক্ষ টাকার যে সাইকেল দরকার, সেই সাইকেল কিনে দেন তিনি। এবার লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আয়রন ম্যান হওয়া।বিপ্লব দাসের কথায়, দুর্ঘটনাগ্রস্থ মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে, পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে মানষকে আরও সচেতন করা দরকার। সেটা করতেই আমি এই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসকে বেছে নিয়েছি।