• কোর্টে হারিয়েছি, ভোটেও হারাব: অভিষেক
    বর্তমান | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির ‘সহযোগী’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে তৃণমূল। তাই এসআইআর প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার আনা হয়েছে চক্রান্তের অভিযোগ। স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আওয়াজ তুলেছেন, এবার যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধের প্রথম রাউন্ডে সুপ্রিম কোর্টের জয়কেই দেখছে জোড়াফুল শিবির। সোমবার দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ আসার পর বারাসতের সভামঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রণহুংকার, ‘কোর্টে হারিয়েছি, ভোটেও হারাব।’সোমবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত তৃণমূলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে বলেছে, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি বা অসংগতির তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বিজেপি বলেছিল, বাংলার ১ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু বিজেপির এসআইআর খেলা শেষ। আমাদের মৌলিক অধিকার যারা কেড়ে নিতে চাইছে, তাদের দু’গালে কসিয়ে থাপ্পড় মেরেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাংলার মানুষের জয়। এবার বিজেপিকে ছাব্বিশের ভোটে হারাব।’ তৃণমূলের সাফ কথা, এসআইআরের মূল লক্ষ্য ছিল, বাংলার একটি বিশাল অংশের মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা। আজকের রায়ে তা রুখে দেওয়া গেল। বাংলার মানুষ ‘মুণ্ডহীন মুরগি’ নয়, যা খুশি তাই করবে। দেশে আইন আছে, আদালত আছে। পুরো দেশটা এখনও বিক্রি হয়ে যায়নি।’এসআইআর প্রক্রিয়ার বাকি দিনগুলিতে ‘চিরুনি নজরদারি’র পথে নামতে চলেছে তৃণমূল। একদিকে রাজ্যের সর্বত্র তৃণমূল কর্মীদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে—সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কমিশন অক্ষরে অক্ষরে মানছে কি না, সেদিকে নজর রাখতে হবে। কোথাও গাফিলতি চোখে পড়লেই তা তুলে ধরা হবে। তেমনই কমিশনের উপর আরও চাপ বাড়াতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে আগামী ২৭ জানুয়ারি দেখা করতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া এসআইআর নিয়ে বুথে বুথে দলের নির্দেশ পৌঁছে দিতে ২২ তারিখ তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্টদের নিয়ে বৈঠকও করবেন তিনি।তাৎপর্যপূর্ণ হল, এসআইআর কেন্দ্রিক সময়ে বাংলায় ভোট প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদি ‘পরিবর্তন দরকার’ বলে তোলা আওয়াজ। তার জবাবে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের বক্তব্য, ‘আগামী দিন পরিবর্তন হবে প্রধানমন্ত্রীর। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এসে জয় বাংলা বলবেন উনি। বাংলা বিরোধী জমিদার-জল্লাদদের অত্যাচার, অহংকার এবার ভাঙবে।’ সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও কিন্তু এদিন রায়ের পর বলেছেন, ‘এবার নির্বাচন কমিশন নির্যাতন কমিশন হওয়া থেকে বিরত হবে তো?’
  • Link to this news (বর্তমান)