• বাম আমলে দীর্ঘ ২৫ বছরের বিধায়ক জাহাঙ্গীর করিম
    আজকাল | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ ২৫ বছর ডেবরা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক থাকা প্রাক্তন সিপিএম নেতা জাহাঙ্গীর করিমকে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার জন্য তলব করল নির্বাচন কমিশন।

    একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকেও হিয়ারিংয়ে হাজির থাকার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

    জানা গিয়েছে, ১৯৮৭ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার ডেবরার বিধায়ক ছিলেন জাহাঙ্গীর করিম। দীর্ঘ এই ২৫ বছরে তিনি বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

    বর্তমানে ৭২ বছর বয়সি এই প্রবীণ নেতা সিপিএমের সক্রিয় সদস্য। জাহাঙ্গীর করিমের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে ডেবরা ব্লকের মৈনান এলাকায় তাঁর বাসভবনে এসে এক বিএলও এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার জন্য নোটিশ দিয়ে যান।

    সেই নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ২৮ জানুয়ারি ডেবরা বিডিও অফিসে তাঁর এসআইআর হিয়ারিং নির্ধারিত রয়েছে। তবে কী কারণে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে শুনানিতে তলব করা হয়েছে তা নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন এই বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি।

    কোনও কারণ উল্লেখ না করে এভাবে শুনানিতে তলব করার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তবে যথাযথ কারণ না দেখানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অমান্য করবেন না বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর করিম। তাঁর কথায়, ‘ডেকেছে যখন, যেতে তো হবেই।’

    রাজ্যজুড়ে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যখন রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অশান্তির ছবি সামনে আসছে, তখন শাসক দলের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন সাধারণ মানুষ।

    উল্লেখ্য, ফর্ম ৭ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। এসআইআর -এর  নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে সোমবার লালবাগ মহকুমা অফিস চত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা।

    ঠিক সেই সময়ে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক  গৌরীশংকর ঘোষের নেতৃত্বে  স্থানীয় বিজেপি কর্মী সমর্থকরা  মহকুমা শাসকের কাছে প্রায় ২৭ হাজার  ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়ে যান।

    জানা গিয়েছে, সেই সময় দু'পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বাক-বিতণ্ডা বেঁধে যায়। অভিযোগ উঠেছে বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মন্ডলের গাড়িতে পুলিশের সামনেই  ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সেই সময় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের হাত থেকে  ফর্ম -৭ ছিনিয়ে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। 

    ফর্ম -৭ জমা করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয় বহরমপুরে মহকুমা শাসকের অফিসেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা প্রায় ৯০ হাজার ফর্ম-৭ নিয়ে পৌঁছে যান।

    অন্যদিকে ফর্ম ৭-কে কেন্দ্র করে আসানসোল দক্ষিণের মহকুমা শাসকের অফিসেও প্রবল উত্তেজনা ছড়াল। হাতাহাতিতে জড়ালেন  তৃণমূল-বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা।

    এর পাশাপাশি এদিন বিক্ষোভের মুখে পড়েন বনগাঁ উত্তর বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনীয়া। রীতিমতো পুলিশ প্রহরায় তাঁকে বনগাঁ মহকুমা শাসকের অফিস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
  • Link to this news (আজকাল)