• নজরে কলকাতার ভোট? 'পাড়ার সমাধানে' বিশাল টাকা বরাদ্দ KMC-কে
    আজ তক | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • রাজ্য সরকারের ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির আওতায় কলকাতা পুরসভা-কে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাড়াভিত্তিক সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে অগাস্ট থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে বুথ-স্তরের শিবির আয়োজন করে বাসিন্দাদের কাছ থেকে সমস্যার তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

    পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় মূলত ছোট ছোট রাস্তা মেরামত ও পাকা করা, নিকাশী ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কম আলোযুক্ত এলাকায় স্ট্রিট লাইট বসানোর কাজই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। কেএমসি-র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মার্চ মাসের মধ্যেই অধিকাংশ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    রাজ্য সরকার গোটা বাংলার জন্য এই কর্মসূচিতে মোট ৮,০০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে কলকাতার জন্য প্রথমে ৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরে আরও ২৭২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ফলে পুরসভার হাতে মোট বরাদ্দের অঙ্ক ৩০০ কোটিরও বেশি হয়েছে।

    পুরসভা সূত্রে খবর, ১০ জানুয়ারির মধ্যে সমস্ত কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা নির্দিষ্ট সময়ে সম্ভব হয়নি। এখন ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সব কাজের আদেশ জারি করার চেষ্টা চলছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, তহবিল বরাদ্দ হয়ে যাওয়ায় কাজ দ্রুত গতিতেই শুরু হবে।

    এই কর্মসূচিতে একটি বুথের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ রয়েছে। রাজ্যে প্রায় ৮০ হাজার বুথ রয়েছে, যার মধ্যে ৪,৭০০টিরও বেশি কলকাতা শহরে। পাটুলি-বাঘাযতীন এলাকার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত জানান, তাঁর ওয়ার্ডের ৪৫টি বুথেই কাজের প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিটি বুথে ১০ লক্ষ টাকা করে ধরলে ওয়ার্ডের মোট বরাদ্দ প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা।

    দক্ষিণ কলকাতার ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নন্দিতা রায় জানান, কাজ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও শিবিরগুলির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ তাদের সমস্যাগুলি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন। বিরোধী সিপিএমের তরফেও স্বীকার করা হয়েছে, শিবিরগুলি কার্যকর হয়েছে এবং এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির মাধ্যমে কলকাতার পাড়ায় পাড়ায় পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ জোরদার করতে চলেছে রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুরসভা।

     
  • Link to this news (আজ তক)