• মেলা-সংশয়ে হতাশ পিংলার পটচিত্র শিল্পীরা
    এই সময় | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, মেদিনীপুর: পটচিত্র শিল্পের জন্য বিশ্বজুড়ে যে এলাকার খ্যাতি, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার সেই নয়াগ্রামেই এ বার পটচিত্র মেলা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। প্রতি বছর প্রায় শীতের শুরুতে এই মেলার আয়োজন হয়। এ বার নভেম্বর পেরিয়ে জানুয়ারির প্রায় শেষ। অথচ এখনও মেলা নিয়ে কোনও সুস্পষ্ট সরকারি উদ্যোগ চোখে না পড়ায় ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়েছে শিল্পীদের মধ্যে। প্রায় ১৭ বছর ধরে নিয়মিত নয়াগ্রামে পটচিত্র মেলা হয়ে আসছে। দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকেরাও এখানে এসেছেন। লক্ষ লক্ষ টাকার পটচিত্র কেনাবেচা হয়েছে। পিংলার পটচিত্রশিল্প আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছে।

    গত দু'বছর ধরে রাজ্য সরকারের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দপ্তরের উদ্যোগে এই মেলা হচ্ছিল বলে দাবি শিল্পীদের। সাধারণত নভেম্বরের শেষ বা ডিসেম্বর মাসে এই মেলা হয়। কিন্তু এ বছর জানুয়ারি মাস শেষ হতে চললেও মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার মেদিনীপুর শহরে সৃষ্টিশ্রী মেলার উদ্বোধনে এসে স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী মানসরঞ্জন ভূঁইয়া নয়াগ্রামে পটচিত্র মেলার আয়োজনে উদ্যোগী হওয়ার আবেদন জানান। এতে কিছুটা আশার আলো দেখছেন শিল্পীরা। যদিও তারপরেও মেলা আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান তাঁরা।

    নয়াগ্রামের স্বনামধন্য পটচিত্রশিল্পী বাহাদুর চিত্রকর বলেন, 'এখনও পর্যন্ত মেলা নিয়ে কোনও সরকারি উদ্যোগ দেখা যায়নি। আমরা বিধায়ক ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানিয়েছি। মেলা হলে গোটা গ্রামেরই উপকার হবে। শুনেছি মন্ত্রী বিষয়টি দেখছেন। তবে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিন্ত হতে পারছি না।' আরেক শিল্পী স্বর্ণ চিত্রকর বলে, 'এই মেলার মাধ্যমে আমাদের শিল্প সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছয়। দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা এখানে ভিড় করেন। প্রত্যেক শিল্পীর বিক্রি ভালো হয়। কিন্তু এ বছর এখনও কোনও আভাস না পাওয়ায় খারাপ লাগছে।' পটচিত্রশিল্পী সানোয়ার চিত্রকরের কথায়, 'মেলা বন্ধ হয়ে গেলে শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়বে।'

    রাজ্য ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দপ্তরের আধিকারিক সুবল চন্দ্র পাঁজা বলেন, 'আমাদের কাছে এবার পিংলার পটচিত্র মেলা করার ব্যাপারে কোনও প্রস্তাব আসেনি। আগে যখন প্রস্তাব এসেছিল আমরা তা গ্রহণ করে মেলা করার উদ্যোগ নিয়েছি।' মানস ভূঁইয়া বলেন, 'মেলা না হওয়ার কারণ 'সার'। কী ভাবে মেলা হবে। প্রতিদিন শুনানিতে হাজার হাজার মানুষকে ডেকে হয়রান করছে নির্বাচন কমিশন। শিল্পীদের গ্রামে কতজনকে শুনানিতে ডেকেছে খোঁজ নিন।' পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, 'পটচিত্র মেলা সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।' সব মিলিয়ে পিংলার পটচিত্র এ বার হয়তো বর্ণহীনই থেকে যাবে।

  • Link to this news (এই সময়)