জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্য়ুরো: বর্ষার ধানের পাশাপাশি রাজ্যের বহু জেলায় এখন চাষ হচ্ছে গরমের ধান। এই ধানকে আমরা সাধারণত বোরো ধান বলেই চিনি। ফলনে বেশি। খুব কময় সময়ে পেকে যায় এই মরসুমের ধান। বাজারে যে সরু চাল দেখি তা মূলত এই বোরো ধানের চাল। রাজ্যে ধান চাষ নিয়ে মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট করা একটি পোস্টে জানিয়েছেন, রাজ্যের কৃষি দফতর বাংলার আবহাওয়া ও জলবায়ু উপযোগী ৪টি নতুন উচ্চ ফলনশীল ধান উদ্ভাবন করেছে। পুরুলিয়ার খরা প্রতিরোধ গবেষণা কেন্দ্র এবং চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক বছরের গবেষণার পর এই প্রজাতিগুলি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। আমি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী-সহ সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
উল্লেখ্য, বাংলার আবহাওয়া চরমভাবাপন্ন না হলেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও জলের অভাব রয়েছে, কোথাও আবার নোনা জল বা নীচু জমির জন্য ধান চাষে প্রবল সমস্যা হয়ে থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছন, যে নতুন ৪টি নতুন ভ্যারাইটির ধান উদ্ভাবন হয়েছে তার মধ্যে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার মতো খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য ‘সুভাষিণী’, ‘লছমন্তি’ ও ‘মুসাফির’ নামে তিনটি প্রজাতি রয়েছে, যা খরিফ মরসুমে হেক্টর প্রতি ৫২ থেকে ৫৫ কুইন্টাল ফলন দিতে সক্ষম।
দক্ষিণবঙ্গের দক্ষিণের কয়েকটি জেলায় বর্ষার বন্যা হয়ে থাকে। প্রতি বছরই ফলবার আগে তৈরি ধানজমি বন্যার জলে পচে যায়। সেই সব ডুবন্ত জমির জন্যও একটি ধানের প্রজাতি তৈরি করেছে রাজ্যের কৃষি দফতর। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দক্ষিণবঙ্গের বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য ‘ইরাবতী’ নামে একটি প্রজাতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ জলমগ্ন অবস্থায় নষ্ট হয় না এবং ঝড়ে হেলে পড়ে না ওই ধান। এই চারটিকে ধরে, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত রাজ্য সরকার কৃষকদের সুবিধার্থে গবেষণার মাধ্যমে মোট ২৫টি নতুন ফসলের প্রজাতি তৈরি করল, যার মধ্যে ১৫টিই ধানের ভ্যারাইটি।