• বেলেডাঙা অশান্তিতে এবার NIA তদন্ত? বড় নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের...
    ২৪ ঘন্টা | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বেলডাঙায় অশান্তিতে উদ্বিগ্ন কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও  বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, 'মুর্শিদাবাদে প্রতিটি মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে জেলাশাসক ও পুলিস সুপারকে। কেন্দ্র যদি মনে করে, সে ক্ষেত্রে NIA তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। রাজ্য চাইলে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন। রাজ্যের প্রয়োজনে বাহিনী দেবে কেন্দ্র'।

    বেলেডাঙা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি। হাইকোর্টে জোড়া জনস্বার্থ মামলা। আজ, মঙ্গলবার মামলার শুনানি হল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে। মামলাকারীর আইনজীবী বলেন,  'মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ঘটনা আসলে প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব। ধ্বংস করা হয়েছে একাধিক সম্পত্তি।  রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে। সাংবাদিককে মারধোর করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কও'। তাঁর দাবি, 'ঘটনা যে পূর্বপরিকল্পিত, তা স্বীকার করেছে পুলিস সুপার। অথচ বলছেন,  কোন সেন্টিমেন্টকে আঘাত করা যাবে না'!

    মামলাকারীর আইনজীবীর আরও বক্তব্য, 'গত বছর জুলাই মাসে একই ধরনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হয়েছিল। মুর্শিদাবাদেই বাহিনী রয়েছে। কিন্তু রাজ্য ব্যবহার করছে না! সামসেরগঞ্জে মোতায়েন থাকলেও, বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি। এসব ঘটনায় শুক্রবারই হয়'।  বলেন, মানুষের জীবন ও সম্পত্তিরক্ষায় দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। ১৬৩ বি এন এস বা ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করতে হবে।  NIA তদন্ত চাই।  ভারতবর্ষের শান্তি নষ্ট করতে বাইরের দেশ থেকে টাকা পাঠানো হচ্ছে কি না, তদন্ত হোক'। 

    রাজ্যের তরফে আইনজীবীর পালটা সওয়াল, 'এর আগে মুর্শিদাবাদের ঘটনায়  ৫০০ জন গ্রেফতার হয়েছে । সেসময় ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো হয়েছে'। বিচারপতি বলেন,  'আমরা জানতে চাই এখন কি ব্যবস্থা হয়েছে'? রাজ্যের তরফে আদালতকে জানানো হয়, 'আমরা প্রসাশনিকভাবে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে যায়'। 

    বিচারপতি জানতে চান,  'ওই ঘটনা কী শুক্রবার হয়েছিল'? রাজ্য়ের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জবাব, 'হ্যাঁ শুক্রবার ছিল। ঝাড়খন্ডে মারা যান আলাউদ্দিন। ১২.১৫ টা নাগাদ একজন সাংবাদিককে মারধোর করা হয়।  তারপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চারটি মামলা রুজু হয়েছে থানায়। ৫ কোম্পানি CAPF ক্যাম্প রয়েছে। তারা রুটমার্চ করছে। সব স্বাভাবিক। বাজার খুলে গিয়েছে'।

    রাজ্যকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের পরামর্শ, 'ইতিমধ্যেই CAPF সেখানে মোতায়েন রয়েছে। মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় বাহিনীকে ব্যবহার করা হোক। বাহিনী কম থাকলে কেন্দ্র আরও বাহিনীর অনুমোদন দিক'। কলকাতা হাইকোর্টে পর্যবেক্ষণ, 'প্রতিটি জেলায় যদি এমনটা ঘটতে থাকে তাহলে মানুষের জীবন জীবিকার স্বার্থে আদালতকে পদক্ষেপ করতে হবে। মুর্শিদাবাদে ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের ঘটনায় উদ্বেগজনক'।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)