সৌমিতা মুখোপাধ্য়ায়: তুঙ্গে শেষবেলার প্রস্তুতি। মাঝে আর মাত্র একদিন। ২২ তারিখ-ই শুভ উদ্বোধন ৪৯ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বিকেল ৪টেয় উদ্বোধন। চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ৪৯ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে ২০টি দেশ। তাদের মধ্যে এবার থিম কান্ট্রি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। তবে এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্য়ে রয়েছে বড় চমক!
এবার বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে চিন। ২০১১ সালের পর এবার ২০২৬-এ কলকাতা বইমেলায় আবার আসছে চিন। ১৫ বছর পর কলকাতা বইমেলায় ফের চিনের স্টল থাকছে এবার। ওদিকে বাংলাদেশের পাশাপাশি এবার বইমেলায় থাকছে না USA-র কোনও স্টলও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাজেট কাট-ই এর জন্য দায়ি। এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। কারণ, গতবার-ই ওরা মেইল মারফত জানিয়েছিল যে বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য ওদের কালচারাল বাজেট বরাদ্দ নেই। অনেকে আবার বলছেন, কলকাতা বইমেলায় এবার যেন বিশ্ব কূটনীতির টানাপোড়েনের প্রতিচ্ছবি!
মোট মেলায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা স্টলের সংখ্যা হাজারের বেশি। মেলার সজ্জায় থাকছে ৯টি তোরণ। যার মধ্যে দুটি হচ্ছে আর্জেন্টিনার স্থাপত্যর আদলে। সম্প্রতি প্রয়াত প্রফুল্ল রায় এবং প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামেও থাকছে দুটি তোরণ। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর নামে নামাঙ্কিতও থাকছে একটি তোরণ। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন হচ্ছে কবি রাহুল পুরকায়স্থর নামে। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিল্পী ময়ুখ চৌধুরীর নামে থাকছে বইমেলার শিশু মণ্ডপ।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ কলকাতা বইমেলায় মোট লোকসংখ্যা হয়েছিল ২৭ লাখ। এবার মেট্রো পথে সরাসরি হাওড়ার সঙ্গে বইমেলা প্রাঙ্গন জুড়ে যাওয়ায়, এবছর আরও বেশি সংখ্যক লোক বইমেলায় আসবে বলে আশাবাদী গিল্ড কর্তৃপক্ষ। কারণ, এবছর বইমেলা প্রাঙ্গণে যাওয়া যাবে আরও সহজে। মেট্রো রেলের মাধ্যমে সরাসরি হাওড়া থেকে পৌঁছনো যাবে মেলায়। অন্যদিকে এসপ্ল্যানেড হয়েও পৌঁছানো যাবে মেলায়। যে কারণে ইতিমধ্যেই মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে মেলার দিনগুলোয় আরও বেশি সংখ্যক মেট্রো চালানোর বিষয়ে।
রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া যাবে মেট্রো পরিষেবা। একইসঙ্গে ছুটির দিনেও মিলবে পরিষেবা। পাশাপাশি এবারের বইমেলা প্রাঙ্গণেই থাকবে মেট্রোর টিকিট কাটার জন্য বিশেষ বুথ। সেখান থেকে UPI এর মাধ্যমে সরাসরি টিকিট কাটা যাবে। অ্যাপের মাধ্যমে গুগল লোকেশন মারফত মেলার মধ্যে যে কোনও স্টল খুঁজে পাওয়ার সুবিধা থাকবে। মেলার সব গেটে কিউ আর কোড। যে কিউ আর কোড স্ক্যান করে মেলা প্রাঙ্গনের ডিজিটাল ম্যাপ পেয়ে যাবেন সবাই। এছাড়া থাকছে গ্রাউন্ড ম্যাপও।
আরও পড়ুন,