• ‘হিন্দু বিবাহ আইনে একটি বিয়েই বৈধ’, স্বামীর পেনশনের ভাগ চেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীয়ের আবেদন খারিজ হাইকোর্টের
    এই সময় | ২০ জানুয়ারি ২০২৬
  • হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী একবার বিয়েই বৈধ। এটি একটি কঠোর ও বাধ্যতামূলক নীতি— পর্যবেক্ষণ ওডিশা হাইকোর্টের। এই মর্মে রায় দিয়ে মৃত এক সরকারি কর্মচারীর দ্বিতীয় স্ত্রীর পারিবারিক পেনশনের ভাগ পাওয়ার দাবি খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

    পারিবারিক পেনশন পাওয়ার দাবি নিয়ে কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মৃত এক সরকারি কর্মচারীর দ্বিতীয় স্ত্রী। আদালত জানিয়েছে, আবেদনকারীর পেনশন পাওয়ার দাবি মেনে নিলে তা হবে ‘অবৈধতাকে উৎসাহ দেওয়ার সমান’, কারণ তিনি দ্বিতীয় পত্নীকে গ্রহণ করেছেন। যা হিন্দু বিবাহ আইনের ১৭ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৫ নম্বর ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিচারপতি দীক্ষিত কৃষ্ণ শ্রীপাদ এবং বিচারপতি চিত্তরঞ্জন দাসের ডিভিশন বেঞ্চ ১৩ জানুয়ারির রায়ে এই কথাই জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, ওই মহিলা ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই ওডিশা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেছিলেন। সিঙ্গল বেঞ্চ স্কুল ও গণশিক্ষা দপ্তরের পেনশন দেওয়ার সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেন। ওই দপ্তর তাঁর পারিবারিক পেনশনের আবেদন খারিজ করে দেয়।

    সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি আদেশে কোনও বেআইনি দিক খুঁজে পাননি এবং আবেদনকারীর চ্যালেঞ্জ খারিজ করেন। এর পরেই ওই মহিলা ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন। ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে মন্তব্য করে, ‘হিন্দু সমাজে এক বিবাহই মূল নীতি। প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের ধারণা হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর মূল উদ্দেশ্য ও সারবত্তার পরিপন্থী।’

    আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে পেনশন বিধিতে ‘স্ত্রী’ শব্দটির ব্যাখ্যা বহু বিবাহ বা বহু বিবাহের অনুমতি দেয় না। এই ধরনের নিয়মগুলি হিন্দু বিবাহ আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে এক বিবাহ বহাল থাকতে পুনর্বিবাহকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।

  • Link to this news (এই সময়)