• অকুতোভয় কেষ্ট, জেলের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে নিশানা
    আজকাল | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: "আড়াই বছর জেল খাটিয়েছো ভয় পাই নাই। সিপিএমকে তাড়িয়েছি। তোমাদেরও তাড়াব। আমরা আঙ্গুল চুষতে আসিনি।" মঙ্গলবার বীরভূমের নলহাটিতে নির্বাচনী জনসভায় বিজেপিকে কার্যত প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক সুর।পাশাপাশি এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ।

    প্রসঙ্গত, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির বীরভূম সফরের পরেই বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল জেলার বিভিন্ন ব্লকে প্রচার ও জনসভার কাজ শুরু করেছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এদিন রামপুরহাট মহকুমার হাসন বিধানসভার অন্তর্গত নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের লোহাপুর–কাঁটাগোড়িয়া রোডে একটি জনসভার আয়োজন করে তারা। সভাস্থলে কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল ছাড়াও ওই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান তথা রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস ব্যানার্জি, লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা, স্থানীয় বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের একাধিক নেতৃত্ব।

    সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে লাভপুরের বিধায়ক বলেন, এসআইআর-এর নামে যেভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে, তা বাঙালির শিক্ষিত সমাজ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে। তাঁর দাবি, এই হয়রানির যোগ্য জবাব মানুষ বিধানসভা নির্বাচনেই দেবে। 

    এরপর বক্তব্য রাখতে উঠে অনুব্রত সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, "এসআইআর-এর মাধ্যমে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে মুসলিমদের ভোট সরিয়ে দিতে চাইছে।" তাঁর দাবি, মুসলিমরা মমতা ব্যানার্জিকে ভোট দেন বলেই ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং সেই কারণেই অধিকাংশ মুসলিমের নাম কাটা হচ্ছে। তবে বিজেপির সেই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। তাঁর কথায়, "বিজেপি ভাবছে এক একটি বিধানসভা থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার ভোটার বাদ দিয়ে তারা জিতে যাবে, আর তৃণমূল চুপ করে বসে থাকবে। কিন্তু আমরা আঙুল চুষতে আসিনি।"

    অনুব্রতর কটাক্ষ, "দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি, সিপিএমকে তাড়িয়েছি, তোমাদেরও (পড়ুন বিজেপিকে) তাড়াবো। সামনের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির জয় জয়কার হবেই।" তাঁর কথায়, হাসন বিধানসভায় তৃণমূল কম করে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার ভোটে জয়ী হবে। 

    এসআইআর প্রসঙ্গে অনুব্রত বলেন, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও দিনমজুরদের অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে। সপ্তাহে তিনদিন করে সকাল ১০টা থেকে বিকাল চারটে পর্যন্ত ডেকে রাখা হচ্ছে।  ফলে তাঁদের রোজগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তোমাদের কি মায়া নেই? জানি নেই! কারণ তোমরা বাংলাকে সহ্য করতে পারো না। বাংলার বিরুদ্ধে যত বড় ঝড়ই আসুক, আমরা সবাই একসঙ্গে আটকাবো এবং রুখে দাঁড়াবো।

    নিজের জেলজীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "জেল খাটিয়ে আমাকে ভয় দেখানো যাবে না। আড়াই বছর জেল খাটিয়েছো, ভয় পাই নাই। মানুষের উপকার করতে গিয়ে যদি আবার জেলে যেতে হয়, তাতেও আমার কোনও লজ্জা নাই। আমি কোনও অন্যায় করছি না। মানুষের ন্যায্য দাবির জন্য লড়াই করছি। এতে ভয় পাওয়ার কী আছে! ওরা আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ে পেরে উঠছে না বলেই কৌশল করে জব্দ করতে চাইছে। নির্বাচনের আগে আমরা জনসংযোগ আরও বাড়াব। প্রয়োজনে প্রতিটি ব্লক, প্রতিটি অঞ্চল, প্রতিটি পাড়ায় গিয়ে জনসভা করব। মানুষকে বলব, আপনারা ভয় পাবেন না।" তাঁর অভিযোগ, "এসআইআর-এর ভয়ে যারা চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের দিকে ওরা একবারও তাকায়নি। কোনও সহানুভূতি দেখায়নি। এই রাজনীতি লজ্জাজনক, আর এর জবাব মানুষ ঠিক সময়ে ব্যালটেই দেবেন।"

     
  • Link to this news (আজকাল)