• বঙ্গে এসআইআর: শুনানির সময়সীমা বাড়াতে পারে কমিশন
    আজকাল | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে ফাঁপড়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরে শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে খবর। শুনানির শেষ দিন আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে। শুনানির জন্য কতদিন বৃদ্ধি করা হবে তা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি কমিশন। শীঘ্রই সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।

    এসআইআর প্রক্রিয়ার একাধিক অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। সোমবার সেই সংক্রান্ত রায় রাজ্যের শাসকদলের পক্ষেই গিয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি তথ্যের অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি নিয়ে যে অভিযোগ তুলেছিলেন, সেই কার্যত মান্যতা দিয়ে শীর্ষ আদালত কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, তথ্যগত অসঙ্গতি অর্থাৎ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এই কারণে যাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তাঁদের থেকে কোন কোন তথ্য নেওয়া হয়েছে, তাও প্রকাশ করার নির্দেশ, সূত্রের খবর তেমনটাই। জানা গিয়েছে, তথ্য গ্রহণের পর, তার রসিদ দিতে হবে। এদিন মামলায় প্রধানবিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা টাঙাতে হবে কমিশনকে।

    এছাড়াও, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ভোটাররা এখন থেকে নিজেদের অনুমোদিত প্রতিনিধি বা বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) মাধ্যমে নথি জমা দিতে বা আপত্তি জানাতে পারবেন। তালিকায় নাম প্রকাশের পর থেকে আরও ১০ দিন সময় দিতে হবে দাবি বা আপত্তি জমা দেওয়ার জন্য। এছাড়াও, জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর কেন্দ্রগুলিতে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয়, তার জন্য রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং জেলাশাসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে শুনানি প্রক্রিয়া সুষ্ঠু সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের এই সব নির্দেশ মানতে অনেক সময় লাগতে পারে। কমিশনের অনুমান ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি শেষ করা সম্ভব হবে না। 

    প্রসঙ্গত, গত ১৬ ডিসেম্বর এসআইআর-এর প্রথম ধাপ শেষে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়া চলেছে। সেই সময়সীমা চার দিন বাড়িয়ে ১৯ জানুয়ারি করা হয়েছিল। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে হেয়ারিং প্রক্রিয়া চলার কথা। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে শুনানির শেষ দিন এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)