• ভোটমুখী বাংলায় অন্তর্বতী বাজেটে কি নতুন বেতন কমিশনের চমক, বকেয়া DA? ২ ফেব্রুয়ারি রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা...
    ২৪ ঘন্টা | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী এপ্রিল মাসেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— আসন্ন রাজ্য বাজেটে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) সরকার সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন কোনো বেতন কমিশন (Pay Commission) ঘোষণা করবে?

    সাধারণত নির্বাচনের আগে ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে সরকার বিভিন্ন জনমোহিনী ঘোষণা করে থাকে। সেই ধারা বজায় রেখে অন্তর্বর্তী বাজেটে বেতন কমিশনের পাশাপাশি মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ আসলে কোন দিকে এগোচ্ছে, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না।

    বেতন কমিশন নিয়ে জল্পনা ও বাস্তবতা

    সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে বৈতরণী পার হতে রাজ্য সরকার এই বছরের বাজেটে সপ্তম বেতন কমিশনের ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু এই ঘোষণা কি আদেও তাঁদের জন্য সুখবর বয়ে আনবে? গাণিতিক হিসাব এবং বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণ বলছে অন্য কথা। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, যদি রাজ্য সরকার এখন সপ্তম বেতন কমিশন চালুও করে, তবে কর্মচারীদের প্রকৃত আর্থিক লাভের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

    রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বর্তমানে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন প্রদান করছে। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা অনেক আগেই সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পেয়েছেন এবং তাঁদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে, সেখানে বাংলার কর্মীরা এখনও তিমিরেই রয়ে গেছেন।

    ডিএ বৈষম্য: কেন্দ্র বনাম রাজ্য

    বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে ৫৮% হারে ডিএ পাচ্ছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা দাবি করছেন যে তাঁরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে মাত্র ১৮% ডিএ পাচ্ছেন। এই বিশাল ব্যবধান রাজ্য প্রশাসনের প্রতি কর্মচারীদের ক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ।

    অভিজ্ঞ মহলের মতে, যদি সরকার এখন নতুন কোনো পে-কমিশন গঠন করে, তবে বকেয়া ডিএ-র বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যেতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন বেতন কমিশন গঠিত হলে পুরনো বকেয়া ডিএ সাধারণত মূল বেতনের সাথে যুক্ত (Merge) করে দেওয়া হয়। কর্মচারীদের আশঙ্কা, এতে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি— অর্থাৎ কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া ডিএ পাওয়ার লড়াইটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে।

    আন্দোলনের সুর ও মহার্ঘ ভাতার দাবি

    এই বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন আগামী ২৭ জানুয়ারি একটি 'মেগা র‍্যালি' বা বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এই সমাবেশের মূল দাবিগুলো হল:

    AICPI (All India Consumer Price Index) বা সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্য সূচক অনুযায়ী কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা প্রদান।

    বকেয়া সমস্ত ডিএ (Arrears) অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়া।

    ডিএ প্রদানের বিষয়টিকে একটি স্থায়ী আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা, যাতে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে কর্মীরা তাঁদের পাওনা বুঝে পান।

    বাজেট কি কোনও দিশা দেখাবে?

    ২৭ জানুয়ারির এই সমাবেশের ঠিক পরেই রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মচারীদের মন ভেজাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ডিএ-র আরও একটি কিস্তি ঘোষণা করতে পারে। তবে কেবল ৪% বা ৫% ডিএ বৃদ্ধিতে কর্মীরা খুশি হবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

    কর্মচারী মহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, সরকার যদি বড় কোনো চমক দিতে চায়, তবে নতুন বেতন কমিশন গঠনের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। কিন্তু কর্মচারীদের বড় অংশ এখন কমিশনের চেয়েও বকেয়া ডিএ এবং কেন্দ্রীয় হারের সমতাকরণকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে বিধানসভায় বাজেট পেশের অপেক্ষা। নির্বাচন বৈতরণী পার হতে রাজ্য সরকার কি নতুন বেতন কমিশনের তাস খেলবে, নাকি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ডিএ-র দাবি পূরণ করবে— তার উত্তর মিলবে আসন্ন বাজেটেই। তবে সাধারণ কর্মচারীদের আশঙ্কা, কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছাড়া নতুন কমিশনের ঘোষণা আসলে 'পুরানো মদ্য নতুন বোতলে' পরিবেশন করার মতোই হতে পারে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)