• নয়ডার ইঞ্জিনিয়ারের মত্যুর ৩ দিন পরে গর্ত থেকে তোলা হলো গাড়ি, ড্যাশক্যাম থেকে মিলতে পারে বড় সূত্র
    এই সময় | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়ডার জল ভর্তি খাদে পড়ে সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার মৃত্যুর পরে তিনদিন কেটে গিয়েছে। অবশেষে উদ্ধার হলো তাঁর ধূসর রঙের SUV। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্রেনে করে সেই গাড়িটি তোলে পুলিশ। গাড়ির সূত্র ধরে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন নজর সেই দিকেই।

    এ দিন সন্ধ্যায় ক্রেন নিয়ে খাদের সামনে জড়ো হন উদ্ধারকারীরা। তার পরে ধীরে ধীরে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি তোলা হয় গর্ত থেকে। বনেট খোলা, পুরো গাড়িতে আগাছা জড়িয়ে ছিল। খোলা ছিল সানরুফও। তদন্তকারীদের মতে, যুবরাজ হয় সানরুফ দিয়ে, নয়তো ভাঙা উইন্ডশিল্ড দিয়ে গাড়ির ছাদে উঠেছিলেন। পঙ্কজ টোকাস নামে মৃত যুবকের এক বন্ধুর দাবি, যুবরাজের গাড়ির ড্যাশক্যামের ফুটেজ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুরুগ্রামের একটি ডেটা সায়েন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন যুবরাজ। শুক্রবার রাতে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ঘন কুয়াশার কারণে চার হাত দূরের জিনিসও স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছিল না। নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর কাছে বাঁক ঘুরতে গিয়ে বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য খনন করা ৭০ ফুটের গর্তে পড়ে যায় তাঁর গাড়ি।

    কাদাজলের মধ্যে ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছিল গাড়িটি। যুবরাজ বাঁচার জন্য চালকের আসন ছেড়ে গাড়ির ছাদে উঠে দাঁড়ান। সাঁতার জানতেন না বলে জলে নামেননি। ওই অবস্থায় বাবাকে ফোন করেন তিনি। কাতর স্বরে বলেন, ‘বাবা, জমা জলের একটি গর্তে পড়ে গিয়েছি। আমাকে বাঁচাও। আমি মরতে চাই না।’ কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই কাদাজলে তলিয়ে যায় গাড়িটি। ডুবতে ডুবতেও নিজের মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে রেখেছিলেন যুবরাজ। যাতে উদ্ধারকারী দল সহজেই তাঁর অবস্থান বুঝতে পারে।

    কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন যুবরাজের বাবা রাজ মেহতা। ছিল পুলিশের একটি উদ্ধারকারী দলও। তাঁরা যুবরাজের গলা শুনতে পেলেও কুয়াশার কারণে তাঁকে দেখতে পাননি। কিন্তু রাতে ঠান্ডার মধ্যে পুলিশ ও দমকল কর্মীরা আর জলে নামতে চাননি বলে অভিযোগ। কার্যত চোখের সামনে ছেলেকে মরতে দেখেন বাবা। পরের দিন সকালে যুবরাজের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    এ দিন যুবরাজের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০ মিলিলিটার ফ্লুইড চলে গিয়েছিল যুবরাজের ফুসফুসে। তার ফলে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় যুবরাজের। দুর্ঘটনায় নয়ডা প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। তৈরি করা হয়েছে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে খবর, সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন মিরাটের ডিভিশনার কমিশনার। বাকি দুই সদস্য হলেন মিরাট জোনের এডিজি এবং PWD-র চিফ ইঞ্জিনিয়ার।

  • Link to this news (এই সময়)