নয়ডা: নির্মাণকাজের জন্য খোঁড়া গর্তে গাড়ি নিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। আর বেঁচে ফিরতে পারেননি। বাবার চোখের সামনেই কাদাজলে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছিল তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী যুবরাজ মেহতার। দিনকয়েক আগে নয়ডার সেই মর্মান্তিক ঘটনায় মঙ্গলবার এক প্রোমোটারকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম অভয় কুমার। উইশটাউন প্ল্যানার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামে এক নির্মাণ সংস্থার মালিক তিনি। আর এক মালিক মণীষ কুমারের সন্ধানে তল্লাশি জারি। ঘটনায় নয়ডা অথরিটির বিরুদ্ধে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে এই এলাকা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকারের সেচদপ্তর। একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেখানে সেক্টর ১৫০-র নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করতে ও বৃষ্টির জমা জল হিন্দন নদীতে ফেলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে হেড রেগুলেটর নির্মাণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কান দেয়নি নয়ডা অথরিটি। স্থানীয়দের কথায়, প্রশাসনের উদাসীনতা ও গাফিলতির জেরেই এই মৃত্যু। সময়মতো হেড রেগুলেটর নির্মাণ হলে আজ এভাবে এক যুবকের মৃত্যু হত না।২০২১ সালে একটি মলের বেসমেন্ট এরিয়া তৈরির জন্য নয়ডার সেক্টর ১৫০-র কাছে প্রায় ২০ ফুট গর্ত খনন করা হয়েছিল। তারপর থেকেই সেখানে জল জমে রয়েছে। ব্যাপক কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কম থাকায় বাঁক নিতে গিয়ে সেই গর্তে পড়ে যান যুবরাজ। তদন্তে নেমে এদিন উইশটাউন প্ল্যানার্সের মালিক অভয় কুমারকে পাকড়াও করা হয়েছে। এরইমাঝে সোমবার নয়ডা অথরিটির সিইও লোকেশ এমকে সরিয়ে দিয়েছে যোগী সরকার। ঘটনার তদন্তে একটি সিট গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দুর্ঘটনাস্থলে পরিকাঠামোগত একাধিক খামতিও সামনে এসেছে। ওখানে ৯০ ডিগ্রির বাঁক রয়েছে। কিন্তু পাশে যে রেলিং ছিল, তা অত্যন্ত দুর্বল। এলাকায় শক্তপোক্ত কোনও ক্র্যাশ বেরিয়ারই ছিল না। ছিল না সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও পর্যাপ্ত আলো। সেই ইস্যুতেই সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। দেশে শহরের পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার বিষয়টি সামনে এনে বিজেপি সরকারকে তাঁর কটাক্ষ, ‘ রাস্তায় মৃত্যু, সেতুতে মৃত্যু, আগুনে মৃত্যু, জলে মৃত্যু, দূষণে মৃত্যু, দুর্নীতিতে মৃত্যু, উদাসীনতায় মৃত্যু। দেশের শহরাঞ্চলের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। দায়বদ্ধতার অভাব। কোথাও কোনও দায়বদ্ধতা নেই।’ জল থেকে তোলা হচ্ছে গাড়ি। -পিটিআই