একধাক্কায় ২১ শতাংশ, উত্তরপ্রদেশেও বাদ যাওয়া ভোটারের সিংহভাগই মহিলা
বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকা সাফসুতরো করার কথা জানিয়ে চলছে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)। কিন্তু এক প্রক্রিয়ায় কি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে মহিলা ভোটারদের? বিহারের পর এবার উত্তরপ্রদেশেও কমল মহিলা ভোটার সংখ্যা। গত ৬ জানুয়ারি যোগীরাজ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, পুরুষ ভোটারের তুলনায় অনেক বেশি মহিলার নাম কাটা গিয়েছে। ৭.২২ কোটি থেকে মহিলা ভোটার একধাক্কায় কমে হয়েছে ৫.৬৭ কোটি। অর্থাৎ ২১.৪ শতাংশ কমেছে মহিলা ভোটার। সেই তুলনায় পুরুষ ভোটার বাদ পড়ার হার ১৬.৩ শতাংশ। তালিকায় পুরুষ ভোটারদের সংখ্যা ৮.২৩ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৬.৮৮ কোটি।উত্তরপ্রদেশে পুরুষদের তুলনায় ২০ লক্ষেরও বেশি মহিলার নাম বাদ পড়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে ভোটার তালিকায় নারী ও পুরুষের অনুপাতেও। এসআইআরের আগে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় প্রতি হাজার পুরুষে নথিভূক্ত মহিলা ভোটারের সংখ্যা ছিল ৮৭৭। খসড়া তালিকায় তা নেমে হয়েছে ৮২৪। ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে পুরুষ ও মহিলাদের অনুপাত এমনিতেই ছিল জাতীয় গড়ের চেয়েও কম। প্রতি হাজার পুরুষে মহিলা সংখ্যা ৯১১। সেই তুলনাতেও খসড়া তালিকায় মহিলা ও পুরুষের অনুপাত আরও ধাক্কা খেয়েছে। গাজিয়াবাদ জেলার শাহিবাবাদ কেন্দ্রে মহিলাদের অনুপাত সবচেয়ে বেশি কমেছে। কাজের খোঁজে শহরাঞ্চলে পাড়ির মতো কারণের পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব ও তথ্য যাচাইয়ের ত্রুটির ফলেই মহিলা ভোটারদের নামে সবচেয়ে বেশি কোপ পড়েছে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। এক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি তথ্যও সামনে এসেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, ভোটার পরিচয়পত্রে স্বামীর বদলে বাবার নাম বা ঠিকানা রয়েছে, এমন মহিলা ভোটারের সংখ্যাও কমেছে। গত বছরের জুলাইয়ে এমন মহিলাদের সংখ্যা ছিল ৭১.১৮ লক্ষ। এসআইআরের খসড়া তালিকায় তা কমে হয়েছে ২৯.০৪ লক্ষ।