খাবার-দাবার সস্তা হলেও বেড়েছে সংসার খরচ, বলছে মোদি সরকারের তথ্যই
বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
নয়াদিল্লি: মাইনে পাওয়ার দিন কয়েকের মধ্যেই ফক্কা পকেট! গড়পরতা সংসারে এক হাল। কিন্তু সরকারি তথ্য তো বলছে, খাবার-দাবার বেশ সস্তা হয়েছে। তাহলে? গেরস্তের এই টানাটানি কেন? বিপাকে পড়ে ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির কেন্দ্র। পরিসংখ্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন মন্ত্রকের বক্তব্য, রান্নাঘরে সুরাহা মিললেও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবা দামি হয়েছে। তার ধাক্কাতেই সংসার খরচ সামলানো দায় হচ্ছে।কেন্দ্রের তথ্য বলছে, নভেম্বরের (০.৭১ শতাংশ) তুলনায় ডিসেম্বরে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি সামান্য বেড়ে হয়েছে ১.৩৩ শতাংশ। যদিও এই বৃদ্ধিকে আকাশছোঁয়া বলা যাবে না। আবার পৃথকভাবে খাদ্যদ্রব্যের দামও টানা সাত মাস ধরে নিম্নমুখী। মৌলিক বহু উপকরণ এক বছর আগের তুলনায় সস্তা হয়েছে। গোটা ২০২৫ সাল জুড়েই মুদ্রাস্ফীতি মাথানত করেছে। গত জানুয়ারিতে যে হার ছিল ৫.৯৭ শতাংশ, বছরশেষে ডিসেম্বরে সেটাই কমে হয়েছে ১.৩৩ শতাংশ। নেপথ্যের বড় ফ্যাক্টর খাদ্যদ্রব্যের দাম কমা। বছরের মাঝামাঝি খাবারের মুদ্রাস্ফাীতি ধণাত্মক ক্ষেত্রে নেমে গিয়ে সেখানেই থিতুও হয়। যদিও অধিকাংশ পরিবারের ক্ষেত্রেই খাবারের দামে এই সুরাহা সত্ত্বেও মাসিক খরচ কমেনি। দেখা যাচ্ছে, এক বছর আগের তুলনায় সবজির দাম কমেছে ১৮.৪৭ শতাংশ। ডাল নিম্নমুখী হয়েছে ১৫.০৯ শতাংশ। তবে এই দুই ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি সত্ত্বেও মাছ, মাংস (৫.১২ শতাংশ), ডিম (৪.৭৬ শতাংশ), দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য (২.৫৬ শতাংশ), ভোজ্যতেল (৬.৭৫ শতাংশ) ও ফলের (৬.৬৬ শতাংশ) দাম বেড়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে খাদ্যদ্রব্যের মুদ্রাস্ফীতি নিম্নমুখী হলেও পৃথকভাবে একঝাঁক খাবারের দাম ঊর্ধ্বমুখীই হয়েছে। এতো গেল রান্নাঘরের কথা। তার বাইরের একাধিক খরচে নাভিঃশ্বাস উঠছে জনতার। বহুমূল্য ধাতু, যেমন রুপোর দাম বেড়েছে ৯৭.০৭ শতাংশ। সোনা মহার্ঘ হয়েছে ৬৮.৬৬ শতাংশ। ফলে পরিবারগুলি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ধাক্কা খেয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত ব্যবহারের সরঞ্জাম দামি হয়েছে ২৮.০৭ শতাংশ। খরচ বেড়েছে স্বাস্থ্য (৩.৪৩ শতাংশ) ও শিক্ষা (৩.৩২ শতাংশ) মতো জরুরি পরিষেবার। গৃহনির্মাণ সংক্রান্ত খরচ বেড়েছে ২.৮৬ শতাংশ। ফলে কিছু ক্ষেত্রে খাবার-দাবার সস্তা হলেও সামগ্রিকভাবে বেড়েছে সংসার খরচ।