বিজেপি সভাপতির দায়িত্ব নিলেন নীতিন, সব রাজ্যে সংগঠন শক্তিশালী করার ডাক
বর্তমান | ২১ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জল জীবন মিশন থেকে ঘরে ঘরে এলপিজি গ্যাস সংযোগ। আদিবাসীদের উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী জন মন যোজনা থেকে লাখপতি দিদি কর্মসূচি। মঙ্গলবার দলীয় মঞ্চ থেকেই লাগাতার সরকারি কর্মসূচির প্রচার করে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনকি এক্ষেত্রে বাদ গেল না আত্মপ্রচারও। তবে কার্যত এর ‘সাফাই’ দিয়ে সভামঞ্চে উপস্থিত বিজেপির নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনকে দেখিয়ে মোদি বললেন, যাবতীয় কাজের ফিরিস্তি আমার বসকেই দিচ্ছিলাম। তিনিই আমার সিআর (কনফিডেন্সিয়াল রিপোর্ট) তৈরি করবেন। বিজেপির নতুন বস নীতিন নবীনজিই। আমি দলীয় কার্যকর্তা মাত্র।মঙ্গলবার বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ১২তম সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিন নবীনের নাম ঘোষণা করে দল। মাসকয়েকের মধ্যেই বাংলা সহ একাধিক রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা ভোট রয়েছে। কিন্তু এদিনের ভাষণে ভোটমুখী রাজ্যগুলির মধ্যে শুধুমাত্র কেরলের উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলার প্রসঙ্গে বলেছেন, বাংলা এবং তেলেঙ্গানায় বিজেপি শক্তিশালী হয়েছে। মঙ্গলবার নীতিন নবীনও কোনও ভোটমুখী রাজ্যেই আলাদাভাবে জয়ের দাবি করেননি। শুধুমাত্র প্রতিটি রাজ্যে বিজেপিকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন। তবে এদিন অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে কড়া বার্তাই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীরা দেশের জন্য নিরাপদ নয়। এদের চিহ্নিত করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। কিছু রাজনৈতিক দল ভোটব্যাংকের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। তাদের মুখোশ খুলে দিতে হবে।মঙ্গলবার বিজেপি কার্যালয়ে সর্বভারতীয় সভাপতির ঘরে নীতিন নবীনের পুরো পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তোলেন ছবি। সভাপতির ঘরে নীতিন নবীনকে নিজে হাতে মিষ্টিও খাইয়ে দেন তিনি। বিজেপি পার্টি অফিসের করিডর থেকে সভামঞ্চ পর্যন্ত এদিন বারবার নীতিন নবীনের পিঠে হাত দিয়ে এগিয়ে দিতে দেখা গিয়েছে মোদিকে। সভামঞ্চে সভাপতির চেয়ার পর্যন্ত তাঁর কাঁধে হাত রেখেও এগিয়ে নিয়ে যান নরেন্দ্র মোদি। এমনকি বসার আসন পর্যন্ত ঠিক করে দেন। মঙ্গলবার দিনভর পার্টি অফিসে বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা-মন্ত্রীরা। দেন শুভেচ্ছাবার্তা। তবে ভোট ছাড়াই বিজেপি সভাপতি নির্বাচনকে কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, বিজেপি গণতন্ত্র বিরোধী একটি দল।