সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে গত ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে মুখ থুবড়ে পড়েছিল মোদি সরকার। নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তারপরও কিন্তু বাংলায় শুরু হয়নি ১০০ দিনের কাজ। ফলে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০২২ সালে যে অধিকার গ্রামীণ বাংলার লাখো মানুষের থেকে কেন্দ্র কেড়ে নিয়েছে, সেই বঞ্চনা অব্যাহত রয়েছে এখনও। আটকে রাখা হয়েছে প্রাপ্য বকেয়াও। প্রশ্ন উঠছে, কেন এই গা-জোয়ারি? সবটাই কি বিজেপির ভোটের কৌশল? বিহার মডেল?মন্ত্রক সূত্রে যা খবর, এর মধ্যে কাজ শুরু তো দূরঅস্ত, বকেয়া টাকা মেটানোরও কোনো প্ল্যান কেন্দ্রের নেই। ইতিমধ্যেই প্রবল প্রতিরোধ স্রেফ উপেক্ষা করে মহাত্মা গান্ধী নামাঙ্কিত কাজের গ্যারান্টি আইনকে ভিবি-জি-রামজিতে বদলে দিয়েছে মোদি সরকার। তবে তা কার্যকরে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্র থেকে যা জানা যাচ্ছে, নতুন মোড়কে এই আইন কার্যকর করতে কমপক্ষে ছ’মাস সময় লেগে যাবে। আর নতুন আইন চালুর আগে মেটাতে হবে রাজ্যগুলির বকেয়া। বিলেই সেটা স্পষ্ট। অঙ্কটা ৯ হাজার ৪৩৯ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী, কেন্দ্রের খাতায় পশ্চিমবঙ্গ পাবে ৩ হাজার ৮২ কোটি ৫২ লক্ষ টাকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কিন্তু দাবি রেখেছে, বাংলার পাওয়ার কথা ৫২ হাজার কোটি। কারণ, ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্র কাজ বন্ধ রাখলেও প্রান্তিক মানুষের স্বার্থে রাজ্য নিজের মতো করে তা চালিয়ে গিয়েছে। সেই মতো নবান্ন খরচ করেছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। আর সেই টাকারই দাবি কেন্দ্রের কাছে। আসন্ন বাজেট অধিবেশনেও এ ব্যাপারে তারা সরব হবে বলেই জানিয়েছেন দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তারপরও কেন্দ্র তিন হাজার কোটির বেশি দিতে নারাজ। সেটাও এখন নয়। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কখন? মন্ত্রকের অন্দরের সূত্র বলছে জুন মাসের আগেই তা ‘ক্লিয়ার’ হয়ে যাবে (কারণ, ততদিনে কার্যকর হবে নয়া আইন)। কিন্তু জুন মাসের আগে বলতে তো ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের শুরুও হতে পারে? অর্থাৎ ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগে। যেভাবে বিহারে ভোট ঘোষণার মুখেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ভরে দেওয়া হয়েছিল ১০ হাজার টাকা। তার প্রভাবও পড়েছিল ভোটযন্ত্রে। তাই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাতেও কি বিহার মডেলেই ভোটের আগে বকেয়া মেটাবে কেন্দ্র? তাহলে নিজেদের গরিব দরদি হিসাবে প্রচার করতে পারবে বিজেপি। আর ঠিক ভোটের মুখে হলে তৃণমূলও তার সুফল খুব একটা ঘরে তুলতে পারবে না। তৃণমূলের উদ্বেগের কারণ হল, বিজেপির ক্ষেত্রেই আদর্শ আচরণ বিধি জারির পর টাকা দেওয়ার মতো অনিয়ম কমিশন দেখতে পায় না। উলটে ‘ঘোষিত প্রকল্প’ বলে এড়িয়ে যায়। ঠিক বিহারে যা হয়েছিল। কিন্তু বাংলা যে বিহার নয়, সেটাও বিজেপি জানে। চার বছরের বঞ্চনা এই রাজ্য ভুলবে না।