আমেদাবাদ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভা মানেই জাঁকজমক। জৌলুসে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়া। গত ১২ বছর ধরে এসব দেখতেই অভ্যস্ত গোটা দেশ। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে গত বছর ১৫ নভেম্বর গুজরাতের নর্মদা জেলায় হওয়া প্রধানমন্ত্রীর সভা। বীরসা মুন্ডার জন্মসার্ধশর্তবর্ষ উপলক্ষে ‘জনজাতীয় গৌরব দিবস’-এ আয়োজিত সেই সভায় আদিবাসী উন্নয়ন তহবিল থেকে মোট ৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে বিজেপিশাসিত রাজ্য সরকার। এর মধ্যে ভিআইপি অতিথিদের স্রেফ শিঙাড়া খাওয়ানো হয়েছে ২ কোটি টাকার! মোদির সভায় হওয়া এমন খরচের বহর সোমবার সামনে এনেছেন আম আদমি পার্টির (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে প্রাপ্ত সেই তথ্য উল্লেখ করে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, ‘আদিবাসীদের উন্নয়নের অর্থে এই ২ কোটি টাকার শিঙাড়া কারা খেল? ওই টাকায় তো আদিবাসী এলাকায় বহু স্কুল-হাসপাতাল তৈরি করা যেত!’এতদিন প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে কোটি কোটি টাকা খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলত বিরোধীরা। আরটিআই আইনে সামনে এসেছে, সেই বিদেশ সফরগুলিতে শুধু ভারতীয়দের ‘কমিউনিটি রিসেপশন’-এর নামে উড়ে যায় দেড়-দু’কোটি টাকা। গত বছর এপ্রিলে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন মোদি। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার কারণে সফর কাটছাঁট করে দেশে ফিরে আসেন। মাত্র ১২ ঘণ্টার ছিলেন সেদেশে। তার মধ্যেই খরচ হয় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। সরকারি তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ব্যয় হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, দেশে মোদির সভার বাজেট তার থেকেও ঢের বেশি।গত ১৫ নভেম্বরের সভার খরচ জানতে আরটিআই আইনে আবেদন জানিয়েছিলেন গুজরাতের দেদিয়াপাড়ার আপ বিধায়ক চৈতার বাসবার। তাতেই সামনে এসেছে নর্মদা জেলা প্রশাসনের করা পাহাড়প্রমাণ ব্যয়ের চুলচেরা পরিসংখ্যান। জানা গিয়েছে, যাবতীয় ব্যয় করা হয়েছে আদিবাসী উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ থেকেই। সোমবার ভদোদরায় এক জনসভায় সেকথা উল্লেখ করেন কেজরিওয়াল। বলেন, ‘মোদির সভার প্যান্ডেল-প্যাভিলিয়ন, মূল মঞ্চের ছাউনি, মঞ্চ তৈরির খরচ, অস্থায়ী শৌচাগার, এমনকি সভাস্থলে লোক আনতে বাসের পিছনে কোটি কোটি টাকা জলের মতো খরচ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে এই বিপুল খরচ তো ভালো ব্যাপার। চৈতারের আরটিআইয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ২ কোটি টাকার শিঙাড়া কেনার বিষয়টি জানতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী শিঙাড়ার পিছনে ২০ কোটি বা ৩০ কোটি টাকা খরচ করতেই পারেন। তবে সেই টাকা কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে আসবে না কেন?’ একইসঙ্গে তিনি তুলে ধরেছেন আদিবাসী এলাকায় উন্নয়নের বেহাল অবস্থার কথা। বলেছেন, ‘প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়। তবু আদিবাসী প্রভাবিত এলাকাগুলি সবচেয়ে পিছিয়ে কেন? আমরা যদি সঠিকভাবে এই অর্থ ব্যয় করতে পারি, তবে সুন্দর সুন্দর হাসপাতাল, স্কুল বানানো যায়। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া যায়। রাস্তাও তৈরি করা যায়। কিন্তু সত্যিটা হল, সেই টাকা কখনো সেখানে পৌঁছায় না!’প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্যে উন্নয়ন না হওয়া নিয়ে বিজেপি বিধায়করাও ক্ষুব্ধ বলে মন্তব্য করেছেন কেজরিওয়াল। সম্প্রতি এব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলকে চিঠি লিখেছেন ভদোদরার পাঁচজন গেরুয়া বিধায়ক। তাঁদের অভিযোগ ছিল, আমলারা এলাকার উন্নয়নকে অবহেলা করছেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আমি শুনলাম, চিঠির উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী নাকি বলেছেন আমলারা তাঁর কথাও শোনেন না।’